কুমিল্লা-৪ আসন
আশা ছাড়ছেন না মুন্সী, করবেন আপিল
কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। ফলে আপাতত তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
তবে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়ছেন না মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে এবার আপিল বিভাগে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আপিল বিভাগে এ আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ আল মামুন।
বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।
আদালতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ এবং অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ আল মামুন। অপরদিকে, একই আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা এবং অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।
রায়ের পর হাসনাত আবদুল্লাহর আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু সাংবাদিকদের বলেন, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপির তথ্য গোপন করে আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আদালত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। ফলে তিনি এ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তবে আইন অনুযায়ী হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ তার রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিটের শুনানির জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করেছিলেন হাইকোর্ট। এর আগে, গত ১৯ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। রিটে ১৭ জানুয়ারি আপিলে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত চাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা-৪ আসনে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। আপিলে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে শুনানি শেষে গত ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
সবার দেশ/কেএম




























