পূর্বাচল প্লট কেলেঙ্কারি মামলা
জয়-পুতুলকে সুধাসদন দান করে পূর্বাচলে প্লট নেন হাসিনা
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্লট বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া তিন মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী পলাতক হাসিনা ও তার পরিবারসহ ২৩ জন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এদিন নয়জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন।
আদালত আগামী ১৫ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত তিন মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
সাক্ষীরা আদালতে জানান, শেখ হাসিনার স্বামী মরহুম ডা. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার সম্পত্তি সুধাসদন থেকে তিনি নিজ অংশ বুঝে নেন। পরে সে সম্পত্তি ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে হেবা (দান) করেন। ঢাকায় তাদের এ সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজেদের নামে কোনও সম্পত্তি নেই উল্লেখ করে রাজউকের প্লট বরাদ্দ নেন শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা।
মঙ্গলবার যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তারা হলেন—প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মোটর ক্লিনার মোহাম্মদ উজ্জ্বল হোসেন, গাজীপুর কালীগঞ্জের সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদুর রহমান, সদর রেকর্ডরুমের সাব-রেজিস্ট্রার মাহবুবুর রহমান, ঢাকার মেট্রোপলিটনের সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট এম মেজবাহউর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক তৈয়বা রহিম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মুদ্রাক্ষরিক কামরুন্নাহার, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার অপারেটর মুক্তি তরফদার।
দুদক চলতি বছরের জানুয়ারিতে এ ঘটনায় পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করে। সবগুলো মামলার মূল আসামি শেখ হাসিনা। এছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেকে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারে থাকার সময় শেখ হাসিনা ও তার পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে যোগ্য না হয়েও পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন।
সবার দেশ/কেএম




























