প্রাথমিক বিধিমালায় বড় পরিবর্তন
সামাজিক চাপের মুখে সংগীত শিক্ষক পদ বাতিল
সামাজিক চাপ ও ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন সৃষ্ট সংগীত শিক্ষক পদ বাতিল করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে শরীরচর্চা শিক্ষকের পদও।
রোববার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা–২০২৫’-এর সংশোধিত গেজেটে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আকতার খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আগের বিধিমালায় শিক্ষক পদ চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছিলো। কিন্তু সংশোধিত বিধিমালায় এখন কেবল দুটি ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। সংগীত ও শরীরচর্চা বিষয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ নতুন সংস্করণে নেই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে, পদ বাতিলের এ সিদ্ধান্ত ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলোর চাপের ফল কি না—এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, আপনারা এটি খতিয়ে দেখতে পারেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালায় আরও কিছু শব্দগত সংশোধন আনা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আকতার খান জানান, আগের সংস্করণে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ২০ শতাংশ পদ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতকদের জন্য নির্ধারিত ছিল, আর বাকি ৮০ শতাংশ ‘অন্যান্য বিষয়ে’ স্নাতকদের জন্য।
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য বিষয়ে’ শব্দবন্ধটি বিভ্রান্তি তৈরি করেছিলো। তাই সেটি সংশোধন করে এখন বলা হয়েছে, ‘বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ে অন্যূন স্নাতক ডিগ্রিধারী’। অর্থাৎ ৮০ শতাংশ পদের জন্য বিজ্ঞান বিভাগের প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।
জানা গেছে, গত আগস্টে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যে মূল বিধিমালা জারি করেছিল, তাতে সংগীত শিক্ষক পদ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সমাজের সর্বস্তরের প্রতিনিধিসহ কিছু ধর্মভিত্তিক সংগঠন তীব্র আপত্তি জানায়। তারা দাবি করেছিলো, সংগীত শিক্ষা ইসলামি সংস্কৃতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ও বিভিন্ন ধর্মীয় মঞ্চ থেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে।
অবশেষে সরকার সে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই পদ দুটি বাতিল করে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করল বলে জানা গেছে।
সবার দেশ/কেএম




























