স্বপ্নপূরণে এগিয়ে এলো যশোর আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ
বিনাবেতনে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলো চার মেধাবী ছাত্রী
অর্থাভাবে থমকে যাওয়ার কথা ছিলো চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে স্বপ্নই ডানা মেলল যশোরের আদ্-দ্বীন সকিনা উইমেন্স মেডিকেল কলেজে। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস কোর্সে বিনাবেতনে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন অস্বচ্ছল পরিবারের চার মেধাবী ছাত্রী।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের গভর্নিং বডির ২৪তম সভায় ১৬টি আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ চার শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিতরা হলেন—সাতক্ষীরার শ্যামনগরের তাজমিরা খাতুন, তালার তাসনিম সুলতানা বৃষ্টি, খুলনার পাইকগাছার বৃষ্টি মণ্ডল এবং বাগেরহাটের শরণখোলার সুমাইয়া।
জানা যায়, তারা সবাই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পাননি। অন্যদিকে বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তির ব্যয় বহন করার সামর্থ্যও ছিলো না তাদের পরিবারের। এমন পরিস্থিতিতে মেধা ও আর্থিক অস্বচ্ছল কোটায় টিউশন ফি ও ভর্তি ফি ছাড়াই ভর্তির সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এ চার ছাত্রী।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তারা মহান সৃষ্টিকর্তা ও কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে সন্তানদের এ অর্জনে আনন্দে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন অভিভাবকরাও। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিলো সন্তানদের চিকিৎসক হিসেবে দেখতে—আজ সে স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ এগোলো।
গভর্নিং বডির সভায় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতর, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় মনোনীত ১০ জন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে চারজনকে নির্বাচিত করা হয় এবং পরবর্তীতে তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
কলেজের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নিং বডির সভাপতি ও কলেজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুর। উপস্থিত ছিলেন যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবু হাসানাত মো. আহসান হাবীবসহ গভর্নিং বডির অন্যান্য সদস্য এবং কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় সাহা।
এ উদ্যোগকে মানবিক শিক্ষাব্যবস্থার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সুযোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়া উচিত।
সবার দেশ/কেএম




























