চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে তিন নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু
চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিন উপজেলায় বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সময় বজ্রাঘাতে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার আতাহার গ্রামের মো. রাব্বিলের ছেলে আবদুল্লাহ (১৭), শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের দুবাইপ্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (১৯), একই ইউনিয়নের রানীবাড়ী বাজারপাড়া গ্রামের মো. কাশেমের মেয়ে সাদিয়া (১৬), মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. ফিটুর ছেলে মেসবাহুল ওরফে মেসবাবুল (১৪) এবং নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের লাহাবাড়ী গ্রামের আব্দুর রাকিবের স্ত্রী সুমিয়ারা বেগম (৪০)।
আহত হয়েছেন নাচোল উপজেলার লাহাবাড়ী গ্রামের জিয়াউর রহমান (৩৬)। তাকে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন কাজে বাইরে থাকা মানুষজন বজ্রাঘাতের শিকার হন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, বিকেলে বাড়ির পাশের মাঠ থেকে গরু আনতে গেলে বজ্রাঘাতে আহত হন আবদুল্লাহ। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, বিকেলে আমবাগানে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে মাহমুদা বেগমের মৃত্যু হয়। একই সময়ে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে প্রাণ হারায় কিশোরী সাদিয়া। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের এলাকায় বজ্রাঘাতে নিহত হয় কিশোর মেসবাবুল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাঠ থেকে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে সুমিয়ারা বেগম নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হন জিয়াউর রহমান। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে।
একই দিনে জেলার তিন উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজন ছাড়া খোলা মাঠ ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
সবার দেশ/কেএম




























