ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির প্রমাণ মেলেনি: গ্রোসি
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক অভিযোগের মাঝেও ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনও সমন্বিত কর্মসূচির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।
সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানে পরিদর্শন চালিয়ে আইএইএ এখন পর্যন্ত ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পদ্ধতিগত ও কাঠামোবদ্ধ কর্মসূচির উপাদান’ শনাক্ত করতে পারেনি।
তবে তিনি নিশ্চিত করেন, তেহরান ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে—যা সাধারণ বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৩ থেকে ৫ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামই যথেষ্ট বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।
গ্রোসি বলেন, পরিদর্শকরা এমন কোনও তথ্য পাননি যা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরির উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। কিন্তু এ উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধকরণ এবং উপাদান মজুত করাকে তিনি উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তার ভাষায়, এ সমৃদ্ধকরণই ছিলো আমাদের উদ্বেগের মূল উৎস। ওই মাত্রায় উপাদান জমা করার কোনও স্পষ্ট ও যৌক্তিক বেসামরিক উদ্দেশ্য আমরা দেখতে পাইনি।
তিনি আরও জানান, ইরানের সেন্ট্রিফিউজগুলো নিয়মিতভাবে চালু ছিলো এবং অবিরামভাবে আরও বেশি সমৃদ্ধ উপাদান উৎপাদন করছিলো। তাত্ত্বিক হিসাবে, এ পর্যন্ত যে পরিমাণ উপাদান সমৃদ্ধ করা হয়েছে, তা দিয়ে ১০টির বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির মতো সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হতে পারে।
তবে গ্রোসি স্পষ্ট করে বলেন,
তাত্ত্বিকভাবে সক্ষমতা থাকা আর বাস্তবে অস্ত্র থাকা এক জিনিস নয়। তাদের কাছে কি পারমাণবিক অস্ত্র আছে? উত্তর হলো—না।
আইএইএ প্রধানের এ মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, তাদের পর্যবেক্ষণ ও যাচাই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পরিস্থিতির যেকোনো পরিবর্তন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানানো হবে।
সবার দেশ/এফও




























