৬৫০ মার্কিন সেনা হতাহত, পালিয়েছে রণতরী
ইরানের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান ‘ট্রু প্রমিজ ৪’-এর প্রথম দুই দিনেই ৬৫০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ইরানি উপকূলীয় জলসীমা ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তার দাবি, হামলার পর রণতরীটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পিছু হটে।
জেনারেল নায়েনি আরও দাবি করেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ৬৫০ জন মার্কিন সেনা হতাহত হলেও যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দফতরে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট স্থাপনায় আঘাতে প্রায় ১৬০ জন মার্কিন কর্মী হতাহত হয়েছেন বলে ইরান জানিয়েছে। এছাড়া ইরানি নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার উপকূল থেকে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে লক্ষ্য করে চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এরপরই রণতরীটি এলাকা ত্যাগ করে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষের সামরিক দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
খবরের সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
সবার দেশ/কেএম




























