যুক্তরাষ্ট্রে সংগীতচর্চায় উজ্জ্বল এক বাঙালি কণ্ঠ লুনা
সংগীতকে তিনি মনে করেন আত্মা, অন্ধকারে পথ দেখানো এক দীপ্ত আলো। সে আলোর পথেই মাত্র আট বছর বয়সে শুরু হয়েছিল লুনা আখতারের সংগীতযাত্রা। সুরের সঙ্গে তার এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও মজবুত হয়েছে।
সংগীত জীবনের শুরুতেই পাশে পেয়েছিলেন সবচেয়ে বড় প্রেরণা—তার মা। সংগীতচর্চার প্রথম দিনগুলোতে মা-ই ছিলেন গাইড, শিক্ষক, সহচর। মায়ের উৎসাহে ভর্তি হন বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস (BAFA)-এ। সেখানে চার বছর ধরে নজরুল সংগীত ও শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নেন তিনি।

এরপর উচ্চাঙ্গ সংগীতে পেশাদার ভিত্তি গড়তে প্রশিক্ষণ নেন উস্তাদ সাধন বর্মণের কাছে। টানা দুই বছর ধরে উচ্চাঙ্গ সংগীতের কঠিন ধারা অনুশীলনের মাধ্যমে লুনা নিজের কণ্ঠকে আরও পরিণত করেন। এ সময়েই বিভিন্ন মঞ্চে গান গেয়ে নিজের সংগীত প্রতিভার জানান দেন তিনি।
১৯৯২ সালে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান লুনা। নতুন দেশে, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেয়ার মাঝেও সংগীত থেকে নিজেকে দূরে সরাননি। বরং সেখানে নতুন উদ্যমে সংগীতচর্চা শুরু করেন। পাশে পান সংগীতজ্ঞ আমজাদ রহমানকে। তার সহায়তায় লুনা যুক্তরাষ্ট্রে সংগীতের সঙ্গে নিজেকে আরও গভীরভাবে যুক্ত করেন।

পরবর্তী সময়ে নন্দিতা শর্করের সঙ্গে দুই বছর ধরে শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এতে তার কণ্ঠে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। সংগীতের প্রতি তার ভালোবাসা এখন শুধুই কণ্ঠস্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—তিনি যন্ত্রসঙ্গীত ও আধুনিক ধারার সঙ্গীতেও নিজেকে সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে লুনা আখতার গড়ে তুলেছেন এক অনন্য সংগীতভুবন। তার কণ্ঠে ভেসে আসে শিকড়, সাধনা আর সৌন্দর্যের মিলন। প্রতিটি গানে ছড়িয়ে দেন তার জীবনের গল্প, ভালোবাসা ও সংগ্রামের প্রতিধ্বনি।
সবার দেশ/কেএম




























