নাটকীয় মোড়, শেষ হলো ১৫ বছরের জামানা
মমতাকে ছাড়াই ভাঙলো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সাক্ষী থাকলো ৭ মে-র রাত। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা না দেয়ায় সাংবিধানিক সঙ্কট এড়াতে রাতেই সপ্তদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আরএন রবি। এর সঙ্গেই শেষ হলো তৃণমূল কংগ্রেসের টানা ১৫ বছরের শাসনকাল।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজভবন থেকে জারি হওয়া আদেশনামায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৭২ নম্বর ধারা অনুযায়ী ৭ মে রাত ১২টা থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেয়া হলো। রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা রাজ্যপালের পক্ষে ওই আদেশে স্বাক্ষর করেন।
২০২১ সালের ৮ মে প্রথম বৈঠক বসেছিলো সপ্তদশ বিধানসভার। সংবিধান অনুযায়ী, পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় আজ রাতেই তার স্বাভাবিক অবসান ঘটে। সাধারণত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দিলে নতুন সরকার শপথ না নেয়া পর্যন্ত তাকেই কার্যনির্বাহী দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু ৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা ভোটের ফলে বিজেপি ২০৭ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ভোট লুট’-এর অভিযোগ তুলে ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেন।
রাত ১২টা ১ মিনিটের পর রাজ্যে কোনও নির্বাচিত সরকার না থাকায় সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হতো। সে সঙ্কট রুখতেই রাজ্যপাল সরাসরি বিধানসভা ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আদেশনামা জারির সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী-সহ গোটা মন্ত্রিসভার পদ বিলুপ্ত হয়েছে। একইসঙ্গে পদ হারিয়েছেন রাজ্যের ২৯৪ জন বিধায়কও।
রাজভবন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার কোলকাতায় এসে বিজেপি পরিষদীয় দলের বৈঠকে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত করবেন। শনিবার ৯ মে রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন নতুন সরকারের শপথগ্রহণ হতে পারে। ততদিন পর্যন্ত রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ চলবে রাজ্যপালের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে।
ভবানীপুরে নিজের গড়ে প্রাক্তন সেনাপতি শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হারের পরেও ইস্তফা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নাটক জিইয়ে রাখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মেয়াদ শেষের আইনি বাধ্যবাধকতায় রাতেই পর্দা নামলো তৃণমূল জমানার।
সবার দেশ/কেএম




























