হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক
উগ্রবাদের জয় হলো পশ্চিমবঙ্গে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)–এর বড় জয়কে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রসার। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মতো দীর্ঘদিনের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক ঐতিহ্যের রাজ্যেও এবার হিন্দুত্ববাদী মেরুকরণ বড় প্রভাব ফেলেছে।
ভোটের ফলাফলে ক্ষমতাসীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যায় বিজেপি। দলটির পশ্চিমবঙ্গ শাখার নেতা শুভেন্দু অধিকারী এ জয়কে সরাসরি ‘হিন্দুত্ববাদের জয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে। তৃণমূল নেত্রী ও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী নিজের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন।
ভোট গণনার শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে থাকলেও সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায়। সপ্তম রাউন্ড শেষে তিনি প্রায় ১৭ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন। তবে ১৪তম রাউন্ডে সে ব্যবধান দ্রুত কমে আসে এবং শেষ পর্যন্ত জয় পান শুভেন্দু অধিকারী।
বিজয়ের পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন,
মুসলিমরা সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিয়েছে। অন্যদিকে হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সমর্থনেই আমার জয় এসেছে। এটি মূলত হিন্দুত্ববাদের জয়।
তিনি আরও দাবি করেন, বাঙালি হিন্দুদের পাশাপাশি গুজরাটি, মারওয়াড়ি ও শিখ ভোটারদের বড় অংশ বিজেপির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ ফলাফলকে তিনি ‘অরাজক শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের রায়’ বলেও উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পেছনে ধর্মীয় মেরুকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের শহর ও আধা-শহরাঞ্চলে হিন্দু ভোটের বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘাত, পার্টি অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে সম্ভাব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সহিংসতার আশঙ্কায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নির্বাচনের পর বড় ধরনের অস্থিরতার শঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।
অন্যদিকে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি মিলে ‘শতাধিক আসন লুট করেছে’। তিনি দাবি করেন, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেয়া হয়েছিলো।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে এবার বিজেপির সাফল্য শুধু নির্বাচনী জয় নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক ও আদর্শিক মানচিত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। দীর্ঘদিনের তৃণমূল আধিপত্য ভেঙে বিজেপির উত্থান এখন পুরো ভারতীয় রাজনীতিতেই নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সবার দেশ/কেএম




























