নিহত একাধিক, দখল-ভাঙচুরের অভিযোগ
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী উগ্রবাদী বিজেপির সহিংসতা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, দখল ও ভাঙচুরের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষে একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় দখল, হামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজয় মিছিল করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কোথাও কোথাও বুলডোজার নিয়ে মিছিল করার অভিযোগও উঠেছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে কার্যত ভরাডুবি হয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের।
জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের কয়েকটি এলাকায় মুসলিম ব্যবসায়ীদের দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকাতেও সংঘর্ষ ও উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে।
কোলকাতার বেলেঘাটায় বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক নামে এক তৃণমূল কর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত বিশ্বজিৎ তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ এজেন্ট ছিলেন বলে জানা গেছে। পরিবারের দাবি, ভোট গণনার দিন তিনি বাসায় ছিলেন। সন্ধ্যায় একটি ফোন পেয়ে বাইরে গেলে পরে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার মোবাইল ফোনটিও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বেলেঘাটা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার বিকেলে নিউ টাউন এলাকায় বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বোলপুর-এর নানুরের সন্তোষপুর গ্রামে আবীর শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মী নিহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া নন্দীগ্রামেও সহিংসতা ও দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের হরিপুর অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে বিজেপির সাইনবোর্ড ও পতাকা লাগানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল।
তবে বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য অশেষ দাস দাবি করেছেন, ২০২০ সাল পর্যন্ত ওই অফিস বিজেপিরই ছিলো।
এদিকে মহিষাদল রাজ কলেজে আরএসএসের ছাত্রসংগঠন এবিভিপির সদস্যরা তৃণমূলের পতাকা ও ফেস্টুন খুলে নিজেদের পতাকা টাঙিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে।
ফলতা এলাকাতেও তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। হামলার সময় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, তৃণমূল বা অন্য কোনও দলের অফিস দখল করা যাবে না। অন্যের কার্যালয়ে বিজেপির পতাকা তোলাও গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সবার দেশ/কেএম




























