হামলায় বিপর্যস্ত সৌদি, বাতিল ৪ হাজারের বেশি ফ্লাইট
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে সৌদি আরবের আকাশপথে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দেশটির রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত ফ্লাইটের বড় অংশ বাতিল করা হয়েছে। ৮ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরটিতে ৪ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমান চলাচলবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, ৮ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মোট ৪ হাজার ৭৩৬টি ফ্লাইট নির্ধারিত ছিলো। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৮৬ শতাংশই চলাচল করেনি।
হামলার কারণে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রী ও বিমান সংস্থাগুলোকে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে দীর্ঘ বিরতির পর গত রোববার (২৫ অক্টোবর) সীমিত পরিসরে বিমানবন্দরটি আবার চালু করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। যদিও ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরের পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশটির দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর। ফলে এ বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
চলতি মাসে সৌদি আরবে হামলা জোরদার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, তেল স্থাপনাসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় বিমান চলাচল সীমিত করা এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ১০ অক্টোবরের হামলায় ১৩ জন নিহত হন। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই হামলার পর ১০ অক্টোবর থেকে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ ছিলো। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ২৫ অক্টোবর সীমিত পরিসরে আবার ফ্লাইট চলাচল শুরু করা হয়।
বিমান চলাচলে এমন বিপর্যয়ের কারণে যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনা, বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইট খোঁজা ও ভ্রমণের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























