কাশ্মীর ইস্যুতে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ তুঙ্গে
মোদির রক্ত গরম হয় শুধু ক্যামেরার সামনেই: রাহুল গান্ধী
কাশ্মীর ইস্যুতে সাম্প্রতিক সংঘাত ও পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারতজুড়ে রাজনৈতিক তাপমাত্রা চরমে পৌঁছেছে। বুধবার রাজস্থানের বিকানেরে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘সিঁদুর ফুটছে রক্ত নয়’ মন্তব্যের পর, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধীদলীয় নেতারা তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রাহুল মোদিকে সরাসরি আক্রমণ করে লেখেন, মোদিজি, শুধু ক্যামেরার সামনেই আপনার রক্ত গরম হয় কেন? ফাঁকা বক্তৃতা বন্ধ করুন। বলুন, কেনো আপনি পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের ব্যাখ্যা বিশ্বাস করলেন? কেনো ট্রাম্পের কাছে মাথা নত করলেন? আপনি ভারতের সম্মানের সঙ্গে আপস করেছেন!
‘সিঁদুর ফুটছে রক্ত নয়’: মোদির মন্তব্যে নতুন বিতর্ক
বুধবার বিকানেরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রক্ত নয়, আমার শিরায় সিঁদুর টগবগ করে ফুটছে। ভারত প্রতিশোধ নিতে জানে—কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার জবাব মাত্র ২২ মিনিটেই দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য ইতোমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা একে ‘ফিল্মি সংলাপ’ আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, বাস্তব নিরাপত্তা ব্যর্থতা ঢাকতেই কি এমন বক্তৃতার আশ্রয় নেয়া হচ্ছে?
বিরোধী প্রতিক্রিয়া: ‘ফাঁকা বুলি’, ‘ফিল্মি ডায়লগ’
কেবল রাহুল গান্ধীই নন, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও মোদিকে কটাক্ষ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেবল সিনেমার মতো ডায়লগ দেন, বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক থাকে না।
তিনি আরও বলেন, ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মোদি আবেগে ভেসে গিয়ে জাতীয়তাবাদের ঢাল তোলেন—কিন্তু প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির জবাব দেন না।
ভোটের আগে উত্তপ্ত জাতীয়তাবাদ
ভারতের জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, এবং এ মুহূর্তে কাশ্মীর ইস্যুতে সামরিক ও কূটনৈতিক ব্যর্থতা নিয়ে সরকার চাপে। বিশেষত, রাফাল বিমানসহ কিছু সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও পাকিস্তানের পাল্টা বিবৃতিকে ঘিরে বিরোধীরা সরকারকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও নাটকনির্ভর’ বলে চিহ্নিত করছে।
বিশ্লেষকদের মত: রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদ বনাম নিরাপত্তা বাস্তবতা
ভারতের রাজনৈতিক ভাষ্যকার অধ্যাপক নীলাঞ্জন মুখার্জী মনে করেন, নির্বাচনী প্রান্তে দাঁড়িয়ে মোদি যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করছেন, তা তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্র্যান্ডকে দৃঢ় করে তোলে, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তিনি বলেন, জনসভায় আবেগী বক্তৃতা এক জিনিস, আর সেনাবাহিনীর সামর্থ্য ও নীতিগত জবাবদিহি আরেক জিনিস—ভারতবাসীর এখন উভয়ের প্রয়োজন।
কাশ্মীর প্রশ্নে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির ঝুঁকি অনেক। সীমান্তের উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের ভেতরে রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বশীল বক্তব্য ও সত্যনিষ্ঠ ব্যাখ্যা এখন সময়ের দাবি—তবে ভারতে রাজনৈতিক আবেগ ও নির্বাচনী গণনায় বাস্তবতা প্রায়শই পেছনের সারিতে ঠাঁই পায়।
সবার দেশ/কেএম




























