শুল্ক ও বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমনে ট্রাম্প-শি’র ফোনালাপ
চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা ও শুল্কসংক্রান্ত মতপার্থক্য নিরসনের লক্ষ্যে টেলিফোনে কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
চীনের ওয়াশিংটন দূতাবাস জানিয়েছে, ট্রাম্পের অনুরোধে এ ফোনালাপ হয়। তবে এ সংলাপে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। হোয়াইট হাউসও এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
ফোনালাপটি এমন এক সময় ঘটলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আবারও চরমে। বিশেষ করে খনিজ পদার্থ, প্রযুক্তিপণ্য এবং কৌশলগত উপকরণে শুল্ক আরোপকে কেন্দ্র করে দুই পরাশক্তির মধ্যে সংঘাতের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেয়ার পর দুই দেশ একটি ৯০ দিনের শুল্ক প্রত্যাহার চুক্তি করলেও, তার কার্যকারিতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা, চীনের পাল্টা জবাব
চুক্তির পরও ট্রাম্প প্রশাসন চীনের বিরুদ্ধে একতরফা শুল্ক বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করার পাশাপাশি, চিপ ডিজাইন সফটওয়্যার ও উচ্চপ্রযুক্তির রফতানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এর জবাবে চীন গত মাসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও চুম্বকের রপ্তানি স্থগিত করে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈশ্বিক গাড়ি শিল্প, চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষা খাত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই এখন দেখছে উভয় দেশ। ট্রাম্প প্রশাসন প্রকাশ্যেই চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করছে, যদিও ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন।
বাজারে স্থবিরতা, বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ
ফোনালাপের খবরে বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে তাৎক্ষণিক কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আগামী বড়দিনের কেনাকাটার মৌসুমে যদি নতুন করে শুল্কযুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে তা মার্কিন খুচরা বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
বিশ্ববাজার ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের অনিশ্চিত বাণিজ্যনীতিতে স্নায়ুচাপে রয়েছে। অতীতেও একাধিকবার হঠাৎ শুল্ক আরোপ কিংবা তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। এবারও সে পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মাত্রা
উল্লেখ্য, ট্রাম্প ও শি সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিলেন ২০১৯ সালে জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে। শি জিনপিং সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন ২০২৩ সালের নভেম্বরে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমন্ত্রণে। সে সফরে ফেন্টানাইল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক পর্যায়ে সরাসরি যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে একমত হয় দুই দেশ।
তবে বাইডেন প্রশাসনের চেয়ে ট্রাম্পের অবস্থান আরও আগ্রাসী এবং একতরফাভাবে চীনা বাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রণের দিকে মনোযোগী বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-শি সাম্প্রতিক ফোনালাপ কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তা বাস্তব ক্ষেত্রে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।
আদালতে চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের শুল্কনীতি
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকটি শুল্কনীতি বর্তমানে মার্কিন আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে চিপ প্রযুক্তি এবং কৌশলগত খনিজের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে একাধিক মার্কিন ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মামলা করেছে।
বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা আবার জোরালো হলে তা কেবল দুই দেশের মধ্যে নয়, বৈশ্বিক সরবরাহচেইন ও প্রযুক্তি শিল্পেও বড় ধাক্কা আনতে পারে—মন্তব্য করেছেন হংকংভিত্তিক অর্থনীতিবিদ ক্লার্ক লিউ।
সবার দেশ/কেএম




























