ইরানি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক টাকার কার্লসনের সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, "হ্যাঁ, তারা চেষ্টা করেছিল এবং তারা সেই অনুযায়ী পদক্ষেপও নিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হয়েছে।"
ইরানি প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে। তিনি বলেন, "আমি সেদিন একটি বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। আমরা কীভাবে ভ্রমণ করব, সে বিষয়েই আলোচনা চলছিল। ইসরায়েল ওই এলাকায় বোমা হামলার পরিকল্পনা করেছিল, যেখানে আমাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।"
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুন ভোরে ইসরায়েল ইরানের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালিয়ে সরাসরি সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা করা। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান পাল্টা আঘাত হানে।
ইসরায়েলি হামলার জবাবে নয় দিন ধরে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালায় ইরান। ২২ জুন ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের ভারী বোমারু বিমানগুলো ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যার ফলে দুই পক্ষ সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পরদিন সন্ধ্যায় ইরান কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। যদিও মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এ হামলায় কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি।
এরপর ২৪ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইসরায়েল ও ইরান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও জানায়, তারা মার্কিন মধ্যস্থতা মেনে নিয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। অপরদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা তেল আবিবকে বাধ্য করেছে আগ্রাসন বন্ধ করতে এবং এটিই ইরানের কৌশলগত বিজয়।
সবার দেশ/এফএস




























