আলোচনার নামে ইরানের মনোযোগ সরিয়ে রেখেছিলো ট্রাম্প
ইরান হামলার আগে ইসরায়েলে গোপনে ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে নজিরবিহীন হামলার মাত্র দু’দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র গোপনে ইসরায়েলে পাঠিয়েছিলো ৩০০টি অত্যাধুনিক এজিএম-১১৪ হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র। শুক্রবার (১৩ জুন) ইসরায়েলের ওই হামলার পটভূমিতে ওয়াশিংটনের এ অস্ত্র সরবরাহ নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে।
শনিবার (১৪ জুন) ‘মিডল ইস্ট আই’ এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, মঙ্গলবার এসব ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো হয়। এবং খুব শিগগিরই — মাত্র ৪৮ ঘণ্টা পর — ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাবরিজে শাহিদ ফাকুরি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরায়েল।
বিশ্লেষকদের মতে, সময় ও পরিমাণের দিক থেকে এটি পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত ছিলো এবং যুক্তরাষ্ট্র হামলার তথ্য সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিলো।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার আগে থেকেই ইসরায়েল বড় পরিসরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করছিলো। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ছিলো সে প্রস্তুতির অংশ। যদিও ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছিলো, তারা ইরানের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এ আলোচনার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিলো কৌশলগত সময়ক্ষেপণ ও ইরানের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানো। মিডল ইস্ট আই-এর বরাতে কর্মকর্তারা জানান, হেলফায়ার সরবরাহের সময়সূচি এবং আচরণই বোঝায়— ইসরায়েলের অভিযানের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের জানাশোনা ছিলো।
এজিএম-১১৪ হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র হলো অত্যাধুনিক লেজার-নির্দেশিত এক ধরনের অস্ত্র, যা প্রধানত নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়— যেমন, মানুষবহুল জায়গা, সামরিক কমান্ড সেন্টার, বা ছোট সামরিক ঘাঁটি। ইরানে শাহিদ ফাকুরি ঘাঁটিতে এ ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
এ হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অস্ত্রনীতি ঘিরে প্রশ্ন তুলেছে— যুক্তরাষ্ট্র কি শুধু ইসরায়েলের পৃষ্ঠপোষকতা করছে, নাকি সরাসরি হামলার সহায়তাকারী?
সবার দেশ/কেএম




























