৪ দেশের ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির পর নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি
ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগালের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র কখনো প্রতিষ্ঠিত হবে না।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) পশ্চিমা বিশ্বের এই চার শক্তিধর দেশ পৃথকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। এর ফলে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে ১৫১টি দেশ এখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, গাজায় প্রায় দুই বছর ধরে ইসরায়েলের আগ্রাসন, গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের প্রেক্ষাপটে এ স্বীকৃতি ফিলিস্তিনের জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্রান্সসহ আরও কিছু ইউরোপীয় দেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনেই একই পদক্ষেপ নিতে পারে।
কিন্তু নেতানিয়াহু তীব্র ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাবি করেন, ৭ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞের পর যারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন, তারা আসলে সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করছেন। জর্ডান নদীর পশ্চিমে কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হবে না—কখনোই না।
টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু আরও বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নাকি ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য ‘হুমকি’। তিনি গর্ব করে উল্লেখ করেন, তার নেতৃত্বে পশ্চিমতীরে ইহুদি বসতি দ্বিগুণ হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশ নিয়ে তিনি ফিলিস্তিন স্বীকৃতির জবাব দেবেন বলেও হুমকি দেন। তার ভাষায়, একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র চাপিয়ে দেওয়ার সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার জবাব আমি আমেরিকা থেকে ফিরে এসে দেবো। অপেক্ষা করুন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর এ হুঁশিয়ারি মূলত পশ্চিমা বিশ্বের বিভক্ত অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে। ফিলিস্তিন প্রশ্নে একদিকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বড় অংশ এগোচ্ছে স্বীকৃতির পথে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো সেই পথের একেবারে বিপরীতে অবস্থান করছে।
সবার দেশ/এফএস




























