উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী
ভেনিজুয়েলায় স্বর্ণখনি ধসে প্রাণহানি ১৪
ভেনিজুয়েলার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে প্রবল বর্ষণের পর ভয়াবহভাবে ধসে পড়েছে একটি স্বর্ণখনি। এতে অন্তত ১৪ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৯ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বলিভার অঙ্গরাজ্যের এল কালাও শহরের কুয়াত্রো এসকিনাস দে কারাতাল নামের ওই খনিতে তিনটি পৃথক শ্যাফট বা গহ্বরে ধসের ঘটনা ঘটে। রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই খনিটি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের জীবিকার প্রধান উৎস ছিলো।
বলিভার অঙ্গরাজ্যের অপারেশনাল জোন ফর ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড নিডস অ্যানালাইসিস (ZODIADAN)-এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গ্রেগরি গনজালেস আসেভেদো জানান, উদ্ধার তৎপরতা তদারকির জন্য ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমান্ড পোস্ট গঠন করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধারে পানি পাম্প করে খনির অভ্যন্তরে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
তবে এখন পর্যন্ত নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা বা আহতদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, খনির নিচে আরও কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বাস এ এল কালাও শহরে। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাই সরাসরি বা পরোক্ষভাবে খনি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এলাকাটি মূলত স্বর্ণ আহরণের জন্য পরিচিত হলেও তামা, হীরা এবং অন্যান্য মূল্যবান খনিজও পাওয়া যায় এখানে।
তবে এ খনিগুলোর বেশিরভাগই অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হয় এবং সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। দুর্বল তদারকি, অবৈধ খনন ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।
স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ভেনিজুয়েলার দক্ষিণাঞ্চলের অবৈধ খনিগুলোতে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। খনি দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না।
অভিযান চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে উদ্ধারকর্মীরা।
সবার দেশ/কেএম




























