ফ্রান্সে পালালেন প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনা
সেনা অভ্যুত্থানে মাদাগাস্কারের ক্ষমতা দখল
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করল মাদাগাস্কার। প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা দেশ ছেড়ে ফ্রান্সে আশ্রয় নেয়ার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়েছে।
রাজধানী আন্তানানারিভোতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে সেনাবাহিনীর এক কর্নেল জানান,
জাতীয় নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সাংবিধানিক শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে সেনাবাহিনী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
সেনা কর্নেল আরও বলেন, আমরা অস্থায়ীভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবো, যতক্ষণ না দেশে শৃঙ্খলা ও আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তার এ ঘোষণার পর রাজধানীতে ট্যাংক মোতায়েন করা হয় এবং সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয় প্রেসিডেন্ট ভবন ও জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন ও পাস হয়। আন্তানানারিভোর সংসদ অধিবেশনে ১৩০ জন সাংসদ অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন। বিরোধীদলীয় নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজোয়েলিনা দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে যাচ্ছিলেন, যা জনগণের ক্ষোভকে চরমে নিয়ে গেছে।
অভিশংসন ভোটের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক বিবৃতিতে রাজোয়েলিনা সংসদের সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ বলে দাবি করেন। তার ভাষায়, জাতীয় পরিষদ আগেই ভেঙে দেয়া হয়েছিলো, তাই এ অধিবেশন অবৈধ। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি দেশ ত্যাগ করেন এবং ফ্রান্সে আশ্রয় নেন বলে এএফপি জানিয়েছে।
দেশজুড়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলন তীব্র হয়ে উঠেছিলো। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নামে। সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ ইউনিট ‘ক্যাপসাট’ প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানানোয় সংকট আরও গভীর হয়।
উল্লেখ্য, আন্দ্রি রাজোয়েলিনা ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকে তিন দফায় দেশ শাসন করেছেন তিনি। এবার নিজেই সে সেনাবাহিনীর হাতেই ক্ষমতা হারালেন। মাদাগাস্কারে এখন কার্যত সেনাশাসন শুরু হয়েছে, এবং দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা।
সবার দেশ/কেএম




























