সাক্ষাৎকারে ভুক্তভোগী নারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে
‘আমার সঙ্গে যৌন সম্পর্ককে জন্মগত অধিকার ভাবতেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু’
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে নিজের তিনবারের যৌন সম্পর্কের বিবরণ দিয়েছেন জেফরি এপস্টেইনের শিকার নারী ভার্জিনিয়া জিউফ্রে। নতুন প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘নোবডি’স গার্ল’-এ তিনি জানিয়েছেন, প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ককে ‘নিজের জন্মগত অধিকার’ বলে মনে করতেন।
বইটি আগামী মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বাজারে আসছে, তবে প্রকাশের আগেই বিবিসি বইটির পূর্ণাঙ্গ কপি হাতে পেয়েছে। সেখানে জিউফ্রে তার জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন—একজন কিশোরী থেকে কীভাবে কুখ্যাত যৌন পাচারকারী এপস্টেইন ও তার সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের হাতে তিনি পরিণত হন এক নিপীড়িত যৌনদাসীতে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বইটিতে উঠে এসেছে ধনী ও ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের হাতে তরুণীদের ওপর চালানো যৌন নিপীড়নের জটিল নেটওয়ার্ক। সেখানে মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন জেফরি এপস্টেইন ও গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল। এপস্টেইন ২০১৯ সালে কারাগারে আত্মহত্যা করেন, আর ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে যৌন পাচারের দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
জিউফ্রে স্মৃতিকথায় লিখেছেন, এপস্টেইনের হাতে তিনি এমন নৃশংস নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন যে, কখনও কখনও ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে অচেতন হয়ে পড়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতেন। তার ভাষায়, আমি বিশ্বাস করতাম, হয়তো আমি একজন যৌনদাসী হিসেবেই মারা যাবো।
বইটিতে বর্ণনা করা হয়েছে ২০০১ সালের এক রাতের কথা, যখন ম্যাক্সওয়েল তাকে লন্ডনের ট্রাম্প নাইট ক্লাবে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ম্যাক্সওয়েল তাকে বলেছিলেন, একজন রাজপুত্রের দেখা পাবে, ঠিক সিন্ডারেলার মতো। সে রাতেই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে প্রথম যৌন সম্পর্কের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন জিউফ্রে।
তিনি আরও জানিয়েছেন,
নিউইয়র্কে এপস্টেইনের টাউনহাউস ও তার ব্যক্তিগত দ্বীপেও অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক হয়েছিলো। জিউফ্রের দাবি, প্রিন্স অ্যান্ড্রু তার প্রতি এমন আচরণ করতেন যেনো বিষয়টি তার রাজকীয় অধিকার—যেন আমার ওপর তার স্বাভাবিক দাবি আছে।
যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু এ সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন, ২০২২ সালে তিনি আদালতের বাইরে জিউফ্রের সঙ্গে একটি আর্থিক নিষ্পত্তি করেন। সে নিষ্পত্তির বিষয়টিও বইয়ের শেষ অধ্যায়ে উল্লেখ রয়েছে।
বাকিংহাম প্যালেসের একটি সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, বইটির প্রকাশ এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠদের, বিশেষ করে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সম্প্রতি অ্যান্ড্রু রাজকীয় পদবিগুলোর ব্যবহার বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন।
জিউফ্রে ও সহলেখক অ্যামি ওয়ালেসের লেখা এ স্মৃতিকথায় আরও বলা হয়েছে, কীভাবে নারীদের শিশুদের মতো দেখতে বাধ্য করা হতো, শারীরিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধের মতো অমানবিক পদ্ধতিতে তাদের বশ্যতা শেখানো হতো।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় ১৮ বছরের কম বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের চেষ্টা করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন জেফরি এপস্টেইন। ২০১৯ সালে মামলার বিচার চলাকালীন তিনি কারাগারে মারা যান—যা নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে।
সবার দেশ/কেএম




























