Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৫৯, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

আপডেট: ১৪:২৮, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

‘এটা বাংলাদেশ নয়’— বিলবোর্ড নিয়ে পর্তুগালে তোলপাড়

‘এটা বাংলাদেশ নয়’— বিলবোর্ড নিয়ে পর্তুগালে তোলপাড়
ছবি: সংগৃহীত

পর্তুগালের মন্তিজো শহরের একটি বাসস্টপে টাঙানো এক নির্বাচনী পোস্টার ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কট্টর-ডানপন্থী দল ‘শেগা’র নেতা আন্দ্রে ভেনতুরার সে পোস্টারে লেখা— “Isto não é Bangladesh”, অর্থাৎ ‘এটি বাংলাদেশ নয়।’

পোস্টারটিতে ভেনতুরার বড় আকারের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া তার আরেকটি প্রচারণা পোস্টারে লেখা দেখা গেছে— ‘যাযাবর (অভিবাসী) সম্প্রদায়কে অবশ্যই আইন মেনে চলতে হবে।’ এ দুটি পোস্টারকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আন্দ্রে ভেনতুরা বর্তমানে পর্তুগালের অন্যতম আলোচিত রাজনীতিক এবং প্রধান বিরোধী দল ‘শেগা’র রক্ষণশীল নেতা। অভিবাসনবিরোধী অবস্থান ও জাতীয়তাবাদী বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছেন। আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে এ বিতর্কিত পোস্টারগুলো তার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ২৬ অক্টোবর ইনস্টাগ্রামে পোস্টারটির ছবি নিজেই শেয়ার করে ভেনতুরা লিখেছেন, 

ওরা ইতোমধ্যেই রাস্তায় নেমে পড়েছে। ১৮ জানুয়ারি আমরা এ দেশকে নাড়িয়ে দেবো। কোনো ভয় নেই!

এ মন্তব্যের পর থেকেই পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভেনতুরার আচরণকে ‘বর্ণবাদী ও অপমানজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস একটি বিবৃতিতে প্রবাসীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

অন্যদিকে, মোইটা শহরের মেয়র কার্লোস আলবিনো স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, 

আইন সবার জন্য সমান। যখন বলা হয় আইন মানতে হবে, তখন সেটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য নয়। অভিবাসীরাও আইন মানবে, শেগা দলের সদস্যরাও মানবে। আন্দ্রে ভেনতুরা থেকে শুরু করে সবাই আইনের আওতায়।

তিনি আরও বলেন, ‘জেনোফোবিয়া ও বর্ণবাদ অপরাধ।’

যদিও আলবিনো জানিয়েছেন, স্থানীয় নগর পরিষদ পোস্টার সরাসরি অপসারণ বা অভিযোগ দায়ের করবে না, তবে বিষয়টি প্রসিকিউটর অফিস যাচাই করতে পারে।

পর্তুগালে প্রবাসী সাংবাদিক ফারিদ পাটোয়ারি বলেন, 

অনলাইনে বর্ণবাদী বার্তা আমরা প্রায়ই দেখি, কিন্তু যখন রাস্তায় এমন পোস্টার ঝোলে, তখন এর প্রভাব অনেক গভীর হয়। পর্তুগাল সবসময় অতিথিপরায়ণ একটি দেশ হিসেবে পরিচিত, তাই এমন প্রচারণার বিরুদ্ধে নীরব থাকা উচিত নয়।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আন্দ্রে ভেনতুরাসহ সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুসা, লুইস মার্কেস মেন্ডেস, আন্তোনিও হোসে সেগুরো, হেনরিক গোভেইয়া ই মেলো, জোয়াও কোট্রিম ডি ফিগেইরেদো, আন্তোনিও ফিলিপ, ক্যাটারিনা মার্টিনস এবং হোর্হে পিন্টো।

এ বিতর্কিত প্রচারণা এখন পর্তুগালের রাজনীতিতে নতুন করে অভিবাসন ও বর্ণবাদ ইস্যুকে সামনে এনে দিয়েছে, যা আগামী নির্বাচনের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সবার দেশ/কেএম

সম্পর্কিত বিষয়:

শীর্ষ সংবাদ:

পাঁচ অস্ত্রসহ গ্রেফতার লিটন গাজী সম্পর্কে সব জানালো পুলিশ সুপার
আনসার ভিডিপি ব্যাংকের ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যবস্থাপক গ্রেফতার
লালমনিরহাটে স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন
ভোলাহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষকের মৃত্যু
সৌদি আরবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দালাল চক্রের খপ্পরে
বাংলাদেশ সীমান্তে পঁচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ
সুদের টাকার জন্য নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেফতার-১
ইমরান খান বেঁচে আছেন, দেশ ছাড়তে চাপ: পিটিআই
হাসিনা-রেহানা-টিউলিপের প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ
শুরু হলো বিজয়ের মাস
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত
খালেদা জিয়ার খোঁজ নিতে হাসপাতালে জামায়াত সেক্রেটারি
স্কুল ভর্তির লটারি ১১ ডিসেম্বর
বিডিআরকে দুর্বল করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখাতেই পিলখানা হত্যাকাণ্ড
ছয় উপসচিবের দফতর পরিবর্তন