‘মেলিসা’র তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড ক্যারিবীয় অঞ্চল, প্রাণহানি বেড়ে ৩০
প্রবল শক্তির হারিকেন ‘মেলিসা’ আঘাতে তছনছ হয়ে গেছে সমগ্র ক্যারিবীয় অঞ্চল। ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে শুধু হাইতিতেই প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন।
ভয়ঙ্কর এ ঝড়ে জ্যামাইকা, কিউবা ও বাহামাসের উপকূলীয় এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে; বহু ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা।
আবহাওয়া সংস্থাগুলো মেলিসাকে ক্যাটাগরি–৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় হিসেবে চিহ্নিত করেছে—যা গত ১৭৪ বছরে জ্যামাইকার ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঝড়। ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি গতির বাতাস নিয়ে মেলিসা বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ভোরে জ্যামাইকার দক্ষিণ উপকূলে আছড়ে পড়ে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস একে ‘অতুলনীয় বিপর্যয়’ আখ্যা দিয়ে বলেন, জ্যামাইকার এমন অবকাঠামো নেই, যা মেলিসার মতো ঝড় সামলাতে পারে। পুরো দেশটাই এখন যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, জ্যামাইকার বহু এলাকা এখনও পানির নিচে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। উদ্ধারকাজ শুরু হলেও প্রচণ্ড বাতাস ও বৃষ্টিতে তা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক মানুষ ঘরছাড়া, অনেকে নিখোঁজ। ঘূর্ণিঝড়ের সময় দ্বীপটিতে ছিলেন প্রায় ২৫ হাজার পর্যটক; তাদের অনেকের অবস্থানও এখনও অজানা।
হাইতিতে মেলিসার সরাসরি আঘাত না পড়লেও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ বন্যা। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্স থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত পেটিট-গোয়াভে শহরে নদী উপচে পড়লে পানির তোড়ে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে ১০ শিশু রয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো ১২ জন নিখোঁজ।
অন্যদিকে, কিউবা সরকার জানিয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চল থেকে অন্তত ৭ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাহামাসেও সরিয়ে নেয়া হয়েছে আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ। সারা অঞ্চলে অন্তত ১ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে এবং ১২ হাজার মানুষ জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, বার্বাডোজে ত্রাণ সরবরাহ শিবির থেকে প্রাথমিকভাবে দুই হাজার ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সংস্থার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, জ্যামাইকা, কিউবা ও হাইতির ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর জন্য সহায়তা পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মেলিসা অতিরিক্ত শক্তি সঞ্চয় করে বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে। তাদের মতে, এটি শুধু একটি ঝড় নয়, বরং গোটা ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য এক গভীর মানবিক সংকটের সতর্কবার্তা।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স
সবার দেশ/কেএম




























