সরকারের অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হয় ভয়াবহ অভিযান
পুলিশি অভিযানে রক্তাক্ত ব্রাজিল, নিহত ১৩২
ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো শহরে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক ভয়াবহ পুলিশি অভিযানে কমপক্ষে ১৩২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন চারজন পুলিশ কর্মকর্তা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তাক্ত ও বিতর্কিত অভিযান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিবিসি, আল-জাজিরা ও এএফপি সূত্রে জানা যায়, রিওর পেনহা কমপ্লেক্স এবং আলেমাও কমপ্লেক্স এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য অংশ নেন। পুলিশ দাবি করছে, নিহতদের বেশিরভাগই কমান্ডো ভার্মেলো নামের কুখ্যাত গ্যাংয়ের সদস্য।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ‘এটি অভিযান নয়, হত্যাযজ্ঞ’। একজন নারী এএফপিকে বলেন, রাজ্য হত্যাযজ্ঞ চালাতে এসেছে, এটা কোনও পুলিশি অভিযান নয় — তারা সরাসরি মানুষ হত্যার জন্য এসেছে।
মানবাধিকারকর্মী রাউল সান্তিয়াগো বলেন, অনেক মানুষকে মাথার পেছনে ও পিঠে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এটা কোনো জননিরাপত্তা অভিযান নয়, এটা শাস্তিমূলক গণহত্যা।
ব্রাজিলের আইনমন্ত্রী রিকর্ডো লেওয়ানডোস্কি জানান,
প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা এ হত্যাযজ্ঞে হতবাক ও ক্ষুব্ধ” হয়েছেন, কারণ অভিযানটি ফেডারেল সরকারের অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ৫০ থেকে ৭০ জন বলে ধারণা করা হলেও পরে তা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়ায়। অনেক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে, যেখানে গ্যাং ও পুলিশের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়।
রিও প্রদেশের গভর্নর ক্লাউদিও কাস্ত্রো বলেন, সংঘর্ষ শহুরে এলাকায় নয়, বনাঞ্চলে ঘটেছে। সেখানে কেউ নিরীহভাবে ঘুরছিলো বলে মনে হয় না।
তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এ বক্তব্য আসলে অভিযানে নির্বিচার হত্যাকাণ্ডের দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা।
ব্রাজিলের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় ও বিতর্কিত পুলিশি অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রিওর বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, নিরীহ মানুষ হত্যার অভিযোগ এবার পুরো দেশজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
সবার দেশ/কেএম




























