ফাঁস করে দিলো মোবাইল বার্তা
ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার যৌন সম্পর্ক, অতঃপর...
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে আলোচিত এক কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার হয়েছেন এক তরুণী শিক্ষিকা। ২৪ বছর বয়সী এলা ক্লেমেন্স নামে ওই ইংরেজি ও নাট্যশিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ— ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রের সঙ্গে একাধিকবার যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন তিনি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজসহ একাধিক সূত্র জানায়, নিউ সাউথ ওয়েলসের মর্যাদাপূর্ণ সেন্ট অগাস্টিনস কলেজে শিক্ষকতা করতেন ক্লেমেন্স। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিন দফায় ওই ছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তদন্তে জানা গেছে, মে মাস থেকেই ক্লেমেন্স ছাত্রটির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ শুরু করেন। প্রথমে নাটকের রিহার্সালের কথা বলে নিজের মোবাইল নম্বর দেন। এরপর নিয়মিত মেসেজ পাঠাতে থাকেন— যেগুলোতে প্রকাশ পায় ঘনিষ্ঠ ও অশালীন ইঙ্গিত। এক পর্যায়ে তিনি ছাত্রকে লিখেছিলেন,
তুমি অন্যদের চেয়ে আলাদা, আজ তোমাকে দেখে আমার হৃদয় কেঁপে উঠলো। আজ রাতে দেখা হবে, এটা আমাদের গোপন।
ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন ছাত্রটির পিতা তার ছেলের ফোনে বার্তাগুলো দেখে ফেলেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানান, পরে স্কুল প্রশাসন বিষয়টি পুলিশে হস্তান্তর করে।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জনাথন বার্ন অভিভাবকদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য গভীর বেদনার সময়। ক্লেমেন্স আমাদের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। আমরা পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি এবং ছাত্র ও তার পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষা করছি।
অস্ট্রেলীয় পুলিশ জানিয়েছে, ক্লেমেন্সের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে— ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী এক শিশুর সঙ্গে ‘গুরুতর যৌন সম্পর্ক’ এবং ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুর সঙ্গে ‘ইচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ’-এর অভিযোগে।
স্থানীয় আদালত তাকে ১ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার মুচলেকায় জামিন দিয়েছে, তবে কঠোর শর্তে। তার মধ্যে রয়েছে—
- স্কুলের কোনো শিক্ষক বা ছাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে না।
- স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ।
- নিউ সাউথ ওয়েলসের নর্দার্ন রিভারস এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে হবে।
- রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ।
- প্রতি রোববার স্থানীয় থানায় হাজিরা দিতে হবে।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ক্লেমেন্স আরও কোনো ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন কি না। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ নভেম্বর।
সবার দেশ/কেএম




























