Sobar Desh | সবার দেশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:২০, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

আপডেট: ০১:২৩, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

লাল কেল্লা তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভারতজুড়ে ৩২ গাড়িতে একযোগে হামলার ছক!

ভারতজুড়ে ৩২ গাড়িতে একযোগে হামলার ছক!
ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির লাল কেল্লা বিস্ফোরণের তদন্তে উঠে এসেছে ভয়ংকর তথ্য। এক বা দুটি নয়, ভারতের ৩২টি শহরে ৩২টি গাড়িতে একযোগে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করেছিলো জঙ্গিরা। লক্ষ্য ছিলো ৬ ডিসেম্বর—অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙার বার্ষিকী। ওই দিনটিকেই ‘প্রতিশোধের প্রতীকী দিন’ হিসেবে বেছে নিয়েছিলো সন্ত্রাসীরা।

ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনআই এর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, সোমবারের বিস্ফোরণে নিহত জঙ্গি উমর মোহাম্মদের সহযোগী আদিল আহমেদ রাথার, মুজাম্মিল শাকিল ও শাহিনা সাঈদের গ্রেফতারের পরই চক্রান্তের পুরো চিত্র স্পষ্ট হতে শুরু করে। এনডিটিভিকে দেয়া এক একান্ত তথ্যসূত্রের বরাতে জানা যায়, বিস্ফোরণ পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিলো পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ।

সূত্রের বরাতে জানা যায় তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার জন্য আটজন সদস্যকে ভাগ করা হয়েছিলো চার দলে—প্রতিটি দলে দুজন করে। প্রত্যেক দলকে দেয়া হয়েছিলো বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি (আইইডি যুক্ত) এবং আলাদা টার্গেট লোকেশন। চিকিৎসক মুজাম্মিল, উমর, আদিল ও শাহিনা মিলে ২০ লাখ রুপি তহবিল জোগাড় করেন, যা পরে উমরের হাতে তুলে দেয়া হয় প্রস্তুতির জন্য।

সূত্র জানায়, গুরুগ্রাম, নুহ এবং আশপাশের এলাকা থেকে ‘এনপিকে’ নামে রাসায়নিক সংগ্রহ করে তৈরি করা হচ্ছিলো বিস্ফোরক। উমর নিজে সিগন্যাল অ্যাপে একটি গোপন গ্রুপ তৈরি করেছিলেন, যেখানে ২ থেকে ৪ জন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সে গ্রুপেই হামলার সময়সূচি ও গাড়িগুলোর অবস্থান ভাগ করে দেয়া হয়েছিলো।

ইতোমধ্যে চারটি গাড়ি উদ্ধার করেছে এনআইএ—হুন্ডাই আই ২০, মারুতি ব্রেজা, মারুতি ডিজায়ার এবং ফোর্ড ইকোস্পোর্ট। এর মধ্যে সোমবার বিকেলে লাল কেল্লার সামনে যে বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হয়, সেটিই ছিলো ওই আই ২০ গাড়িটি। তদন্তে জানা যায়, গাড়িগুলো পুরোনো এবং একাধিকবার বিক্রি হওয়া মডেল থেকে বেছে নেয়া হয়েছিলো যাতে মালিকানা শনাক্ত করা কঠিন হয়।

সবচেয়ে বড় চমক, গাড়িগুলো তৈরি হচ্ছিলো হরিয়ানার ফরিদাবাদের ‘আল-ফলাহ মেডিকেল সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে’। এ প্রতিষ্ঠানটিকেই এখন জঙ্গি চক্রের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্তকারীরা। বুধবার গভীর রাতে ফরিদাবাদ থেকেই উদ্ধার হয় একটি ফোর্ড ইকোস্পোর্ট গাড়ি। গাড়ির ভেতর ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ।

সোমবার বাজেয়াপ্ত হওয়া আরেকটি ডিজায়ার গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে একে-৪৭ রাইফেল এবং বিপুল পরিমাণ গুলি। এনআইএর প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের সময় উমর মোহাম্মদের ভুলেই আগেভাগে ডিভাইসটি বিস্ফোরিত হয়। ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, সে বিস্ফোরণেই তার মৃত্যু হয়।

উমর ও তার দল মূলত পরিকল্পনা করেছিলো লাল কেল্লার পার্কিং এলাকায় গাড়ি রেখে বিস্ফোরণ ঘটানোর। কিন্তু ওই দিন পর্যটকদের জন্য স্মৃতিস্তম্ভটি বন্ধ থাকায় তারা পরিকল্পনা বদলায়। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য স্থির করে লাল কেল্লার প্রধান ফটকের সামনে ব্যস্ত ট্রাফিক সিগন্যাল ও মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথকে।

তদন্তকারীদের ধারণা, যদি এ ৩২ গাড়ির সবগুলোতেই বিস্ফোরণ ঘটানো যেত, তাহলে তা হতো ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা।

সবার দেশ/কেএম

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:

শত্রুর কৌশল এখন পুরোপুরি জানা—দাবি ইরানের
এলপি গ্যাসের দাম কমলো
রামিসার গোপনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে সোহেল
মায়ের নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ড. খলিলুর রহমান
আলোচিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমি মুখ খুললে বাংলাদেশ উত্তাল হবে: মমতা
ফ্রান্সের নির্বাচনে শ্রমিক রাজনীতির নতুন প্রার্থী আনাস কা-জিব
সিঙ্গাপুর ওপেনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন কসমো স্কুলের ৭ জিমন্যাস্ট
প্রবাসীদের জন্য আসছে ‘প্রবাসী কার্ড’, এক প্ল্যাটফর্মে মিলবে সব সেবা
ডেঙ্গু মোকাবিলায় হামের চেয়েও দক্ষ হতে চায় সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়েছিলো আওয়ামী লীগ: ড. মঈন খান
বিএনপি নেতার জুয়ার আসরের ছবি ভাইরাল
জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আটক ১৫ নেতাকর্মী
যুদ্ধ শেষ করতে চাইছেন ট্রাম্প, অনড় অবস্থানে ইরান
সৌদিতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশির মৃত্যু
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত: হারুনুর রশিদ
বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর দাপট, মৃত্যুর খাতা শুরু