‘চিকেনস নেক’ করিডরে সামরিক উপস্থিতি জোরদার
বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের তিন নতুন সেনা ঘাঁটি
বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে ভারতের উত্তরাঞ্চলে দ্রুত গতিতে গড়ে তোলা হচ্ছে নতুন তিনটি সেনা ঘাঁটি। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও বিহারের কৌশলগত এলাকাজুড়ে স্থাপিত এ ঘাঁটিগুলো ভারতের পূর্ব সীমান্তে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
ডেকান ক্রনিকেল ও ইন্ডিয়া টুডে–এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন তিনটি ঘাঁটির মধ্যে রয়েছে—
- পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়ায় নতুন সামরিক ঘাঁটি,
- আসামের ধুবরির বামুনিগাঁও এলাকায় ‘লাচিত বরফুকন’ সামরিক স্টেশন,
- বিহারের কিশনগঞ্জের নতুন প্রতিরক্ষা পোস্ট।
এগুলোর সবগুলোই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর আশপাশে অবস্থিত—যা ভারতের মূল ভূখণ্ডকে সাতটি উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আর সি তিওয়ারি সম্প্রতি চোপড়ার নবনির্মিত ঘাঁটি পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে ইস্টার্ন কমান্ড এক্স প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে জানায়, সেনা কমান্ডার সৈন্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখতে এবং যেকোনও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে তিওয়ারি আসামের ধুবরিতে ৪ (গজরাজ) কর্পস সদর দফতর ও নতুন লাচিত বরফুকন স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ইস্টার্ন কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন সামরিক স্টেশন অঞ্চলটির সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে, যা পুনরুত্থিত আসামের ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে।
ভারতীয় সামরিক সূত্র জানায়, তিনটি ঘাঁটি মূলত সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, ট্যাকটিক্যাল ঘাটতি পূরণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা উন্নত করার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
সিলিগুড়ি করিডর ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল এলাকা। মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই সরু ভূমিখণ্ডের চারপাশে রয়েছে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ ও চীন—যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে একমাত্র স্থল সংযোগ।
তবে ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা একে দুর্বল নয়, বরং দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা করিডর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এক কর্মকর্তা জানান, নতুন ঘাঁটিগুলো আমাদের দ্রুত চলাচল, লজিস্টিকস এবং রিয়েল টাইম গোয়েন্দা তথ্য সংহত করার ক্ষমতা বাড়াবে।
এ করিডরের প্রতিরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে সিলিগুড়ির কাছে সুখনায় অবস্থিত ত্রি-শক্তি কর্পস (৩৩ কর্পস)। আকাশপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে পশ্চিমবঙ্গের হাশিমারা বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন রাফাল যুদ্ধবিমান। এছাড়া সেখানে মিগ সিরিজের ফাইটার জেট ও ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র রেজিমেন্টও মোতায়েন রয়েছে।
ভারতীয় সেনাপ্রধান সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন,
চিকেনস নেক দুর্বল নয়, বরং এটি ভারতের সবচেয়ে সুসংহত প্রতিরক্ষা অঞ্চল। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব বাহিনী এখানে একত্রে কাজ করতে সক্ষম।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অতীতে জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) ‘চিকেনস নেক’ এলাকায় হামলার পরিকল্পনা করেছিলো। এ তথ্যের পর থেকেই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়ে যায়। বন্যা, সীমান্ত হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ এবং ভিসা নীতি নিয়ে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সামরিক ঘাঁটিগুলো ভারতের এ পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা অগ্রাধিকারেরই বহিঃপ্রকাশ।
সবার দেশ/কেএম




























