শান্ত থাকার আহ্বান প্রেসিডেন্টের
বেনিনে অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ: জাতির উদ্দেশে ভাষণে তালোঁ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনে রোববারের অভ্যুত্থানচেষ্টা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে সরকারি বাহিনী। রাতের টেলিভিশন ভাষণে প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস তালোঁ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানান, সেনাবাহিনী আনুগত্য ও দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং বিদ্রোহীদের শেষ ঘাঁটিও পরিষ্কার করে দিয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় টেলিভিশনের ভবনে সেনাদের একটি দল হঠাৎ হাজির হয়ে সংবিধান স্থগিত ও ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেয়। এরপর দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। রাজধানী কোটোনুতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে নিরাপত্তা বাহিনী।
এর আগে ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়—নাইজেরিয়ার তিনটি যুদ্ধবিমান বেনিনের আকাশসীমায় প্রবেশ করে পরে ফিরে গেছে। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র নিশ্চিত করেন—তাদের ফাইটার জেটগুলো অভ্যুত্থানকারীদের দমন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষার সহায়তায় আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে নেয়।
পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় বেনিনের এ ঘটনাকে অঞ্চলটির স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন তুলনামূলক স্থিতিশীল গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত বেনিন এবার দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের।
সরকারি মুখপাত্র উইলফ্রিড লেয়ান্দ্রে হুংবেদজি জানান, অভ্যুত্থানচেষ্টার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন জাতীয় টেলিভিশন ভবনে হামলায় অংশ নেয়, যাদের একজন বরখাস্ত হওয়া সেনা সদস্য।
রাজধানী প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে ভোরে গুলির শব্দ শোনা যায়। সাংবাদিকদের কয়েক ঘণ্টা জিম্মি করে রাখার ঘটনাও ঘটে। ফ্রান্স ও রাশিয়ার দূতাবাস নাগরিকদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়, আর যুক্তরাষ্ট্র কোটোনুতে চলাচলে সতর্ক থাকতে বলে।
প্রেসিডেন্ট তালোঁ জানান, এ ‘সুযোগসন্ধানী বিদ্রোহীদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, এ অর্থহীন অভিযানে যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই। একইসঙ্গে পলায়নরত বিদ্রোহীদের হাতে যারা এখনও আটক থাকতে পারেন তাদের প্রতিও সমবেদনা জানান। হতাহতের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে ছিলেন লে. কর্নেল পাসকাল টিগ্রি। তারা অভিযোগ করেন—উত্তরাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান জঙ্গি হামলা মোকাবিলায় ব্যর্থতা, সীমান্তে নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি সরকারের উদাসীনতা, স্বাস্থ্যসেবায় কাটছাঁট, বিশেষ করে কিডনি ডায়ালাইসিস বন্ধ, কর বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বিধিনিষেধ—এসব কারণে তারা বিদ্রোহে নেমেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেনিন সেনাবাহিনী নাইজার-বুরকিনা ফাঁসো সীমান্তে জঙ্গি হামলায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে।
২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসা ‘কটন কিং’ খ্যাত ব্যবসায়ী তালোঁ আগামী বছর দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে পদ ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি উত্তরসূরি হিসেবে অর্থমন্ত্রী রোমোয়াল্ড ওয়াদাগনিকে সমর্থন করেছেন। যদিও উন্নয়নসূচিতে অগ্রগতির দাবি রয়েছে, সমালোচকরা তালোঁ সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদল দমনের অভিযোগ তোলেন। সম্প্রতি নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রধান বিরোধী প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিম আফ্রিকায় মালি, গিনি, বুরকিনা ফাঁসো ও নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর বেনিনে রোববারের ঘটনা গোটা অঞ্চলের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই গিনিবিসাউয়ে প্রেসিডেন্ট এমবালো সরকার পতনের ঘটনা ঘটে, যা কিছু পর্যবেক্ষকের কাছে ‘নাটকীয়’ বলে আখ্যায়িত।
প্রেসিডেন্ট তালোঁ ভাষণে বলেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। সবাই স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যান।
সবার দেশ/কেএম




























