‘সাহায্য আসছে’ বলে আশ্বাস
ইরানে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ডাক ট্রাম্পের
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানি জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন যে তাদের জন্য সহায়তা পথে রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের দেশপ্রেমিকদের আন্দোলন থামানো যাবে না। তিনি লেখেন, বিক্ষোভ চালিয়ে যান, নিজেদের প্রতিষ্ঠান দখলে নিন। হত্যাকারী ও নিপীড়কদের নাম সংরক্ষণ করুন, তাদেরকে চড়া মূল্য দিতে হবে। এ কাণ্ডজ্ঞানহীন হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছি।
তবে ট্রাম্প যে ‘সহায়তা’ দেয়ার কথা বলেছেন, তা কী ধরনের সহায়তা এবং কখন তা ইরানে পৌঁছাবে—সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি। তার এ মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ডিসেম্বর। রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজার এলাকায় অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ছোট পরিসরের প্রতিবাদ। ধীরে ধীরে সে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন শহরে।
মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি, জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক দরপতন এবং বেকারত্বে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তরুণ জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষ। এসব ইস্যু সামনে এনে তারা ধারাবাহিকভাবে রাস্তায় নামতে শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার খবর পাওয়া যায়।
এর মধ্যেই ইরানের নির্বাসিত শেষ শাহের ছেলে রেজা পাহলভি সরকারের বিরুদ্ধে আরও জোরালো আন্দোলনের ডাক দিলে বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পায়। তার আহ্বানের পর রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের রাজপথ জনসমুদ্রে পরিণত হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ বক্তব্য ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে নতুন রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে, যা দেশটির সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























