তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস ইউএনও’র
ইউনিয়ন পরিষদের জমি দখলের অভিযোগে ধর্মপাশায় মানববন্ধন
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ৫ নম্বর সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের জমি অবৈধভাবে দখল করে দোকান ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির ৯ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মীর কাসিমের ছোট ভাই হাবিব উল্লাহ এবং তার পরিবারের সদস্যরা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের দাবি করা জমিতে স্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করছেন।
বক্তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানাধীন হিসেবে পরিচিত ওই জমি দখলের মাধ্যমে সরকারি ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বেহাত করার চেষ্টা চলছে। তারা বলেন, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুহেল মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোস্তাক চৌধুরী এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মোঃ মুখলেছুর রহমান চৌধুরী, মোঃ ইস্কান্দার মিয়া, মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন (রাজু), উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মোঃ বাবলু মিয়াসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বক্তারা অবিলম্বে বিতর্কিত স্থানে নির্মাণকাজ বন্ধ, ইউনিয়ন পরিষদের দাবি করা জমি থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত হাবিব উল্লাহ বলেন, আমি আমার নিজস্ব মালিকানাধীন জমিতে ঘর নির্মাণ করছি। এটি ইউনিয়ন পরিষদের জায়গা নয়। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট জমি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
সবার দেশ/কেএম




























