রাজনীতি নয়, ধর্মীয় বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকুন: পোপকে ভ্যান্স
ইরান যুদ্ধ ও অভিবাসন নীতি ঘিরে ভ্যাটিকান এবং ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পোপ লিওকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই দিনে হোয়াইট হাউসের সীমান্তবিষয়ক প্রধান টম হোমানও পোপকে অভিবাসন ও রাজনৈতিক বিষয়ে মন্তব্য না করার পরামর্শ দেন।
মঙ্গলবার জর্জিয়ার এথেন্সে এক অনুষ্ঠানে জেডি ভ্যান্স বলেন, পোপ শান্তির পক্ষে কথা বলতেই পারেন, তবে ধর্মতাত্ত্বিক বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় তাকে সতর্ক থাকতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে তা সত্যের ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে। পোপ সম্প্রতি বলেছিলেন, যিশুর অনুসারীরা কখনো ‘বোমা নিক্ষেপকারীদের’ পক্ষে দাঁড়ায় না—এ মন্তব্যের জবাবেই ভ্যান্সের প্রতিক্রিয়া আসে।
অন্যদিকে টম হোমান এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, ক্যাথলিক চার্চের নিজেদের অনেক অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে, আগে সেগুলো সমাধান করা উচিত। তার মতে, ভ্যাটিকানের উচিত মার্কিন অভিবাসন নীতিতে হস্তক্ষেপ না করা। হোমান, যিনি নিজেও ক্যাথলিক, বলেন—অভিবাসন ইস্যুতে চার্চের অবস্থান তাকে হতাশ করেছে।
এ বাকযুদ্ধ মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পোপ লিও-এর সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বিরোধেরই ধারাবাহিকতা। গত সপ্তাহে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া হুমকির সমালোচনা করে পোপ সেটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেন। এর জবাবে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় পোপকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘বৈদেশিক নীতিতে ভয়াবহ’ বলে আক্রমণ করেন।
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে যিশুর মতো দেখানো একটি এআই-তৈরি ছবি পোস্ট করেন। পোস্টটি পরে মুছে ফেলা হলেও তা ধর্মীয় মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
তবে পোপ লিও তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসবেন না এবং শান্তি ও কূটনৈতিক সংলাপের পক্ষে কথা বলে যাবেন। বুধবারও তিনি পুনরায় বলেন, ভিন্ন বিশ্বাস ও মত থাকা সত্ত্বেও মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে পারে।
সূত্র: দ্য হিল
সবার দেশ/কেএম




























