সিঙ্গাপুর ওপেনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন কসমো স্কুলের ৭ জিমন্যাস্ট
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উড়াতে এবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘জুনিয়র অ্যান্ড সিনিয়র আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস সিঙ্গাপুর ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপস (এসজিপি)’-এ অংশ নিচ্ছেন বান্দরবানের লামায় অবস্থিত কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের সাতজন উদীয়মান জিমন্যাস্ট।
দেশের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চল থেকে উঠে আসা এ তরুণ খেলোয়াড়রা লাল-সবুজের জার্সি গায়ে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে ৮ জুন ২০২৬ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জন্য কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের সাতজন জিমন্যাস্টকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— উহাই মং মার্মা, প্রেনথৈ ম্রো, মংচিং প্রু ত্রিপুরা, মেনটন টনি ম্রো, উটিংওয়াং মার্মা, রাজীব চাকমা এবং ওয়ে ওয়ে সাই মার্মা।
বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের এক আনুষ্ঠানিক পত্রে খেলোয়াড়দের মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
জানা যায়, পাহাড়ি অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, কঠোর শৃঙ্খলা এবং আধুনিক ক্রীড়া-পরিবেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জিমন্যাস্টিকসসহ বিভিন্ন খেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় গড়ে তুলছে।
এ বিষয়ে কোয়ান্টাম শিক্ষাসেবা কার্যক্রমের ইনচার্জ ছালেহ আহমেদ বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিলো তৃণমূল পর্যায় থেকে এমন জিমন্যাস্ট তৈরি করা, যারা একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। আজ আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছে, যা আমাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি। আমরা বিশ্বাস করি, তারা সিঙ্গাপুরে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের জন্য তৃণমূল পর্যায় থেকে পরিকল্পিতভাবে খেলোয়াড় তৈরির কোনও বিকল্প নেই। সে জায়গা থেকে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় পাহাড়ি জনপদের অনেক শিক্ষার্থী জাতীয় দলের দুয়ারে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছেন, যা বাংলাদেশের ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সিঙ্গাপুর ওপেন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী এ সাত জিমন্যাস্টের সাফল্যের দিকে এখন তাকিয়ে আছে দেশের ক্রীড়াপ্রেমীরা। তাদের অর্জন ভবিষ্যতে দেশের জিমন্যাস্টিকস অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























