Sobar Desh | সবার দেশ কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১:০৩, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

তাজমিন হত্যা: রাজুকে নিয়ে কুমিল্লা ডিবির নাটকীয়তা

তাজমিন হত্যা: রাজুকে নিয়ে কুমিল্লা ডিবির নাটকীয়তা
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন কথিত প্রেমিক ও হোটেল কর্মচারী রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু চৌধুরী। কক্সবাজার থেকে তাকে হেফাজতে নেয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কুমিল্লায় না নিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনাটি ঘিরে রাজুর ভূমিকা ও তাকে নিয়ে দুই জেলার পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে কুমিল্লা পুলিশের ভাষ্য, তাকে গ্রেফতার করতে নয়, বরং তদন্তের প্রয়োজনে কিছু তথ্য যাচাই করতেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিলো।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের কাছে চন্দ্রিমা উদ্যান এলাকায় স্থানীয় লোকজন রাজুকে আটক করেন। গণমাধ্যমে তাজমিন হত্যা মামলায় তার সংশ্লিষ্টতার খবর প্রকাশের পর তাকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

সোমবার সকালে কুমিল্লা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক পবিত্র সরকার রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজার পুলিশের কাছে লিখিত অধিযাচনপত্র পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা থেকে যাওয়া ডিবির একটি দল কক্সবাজার সদর মডেল থানায় রাজুকে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের পর তাকে আবার কক্সবাজার পুলিশের হেফাজতে দিয়ে ফিরে যায় দলটি।

পুলিশ জানায়, রাজুর বিরুদ্ধে তখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনও লিখিত অভিযোগ বা এজাহার না থাকায় তাকে কুমিল্লায় নেয়া হয়নি। পরে কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশ তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কুমিল্লা পুলিশ রাজুকে গ্রেফতার করে নিতে যায়নি। হোটেলে অবস্থানসহ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিষয় যাচাই করার জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাজমিনের পরিবার চাইলে রাজুর বিরুদ্ধে কক্সবাজারে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারবে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. অহিদুর রহমান বলেন, কুমিল্লা পুলিশের লিখিত অধিযাচনের ভিত্তিতে রাজুকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিলো। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ফেরত দেয়া হলে বিকেলে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। হোটেলে অবস্থানকালে কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে ভুক্তভোগীর পরিবার কক্সবাজার থানায় পৃথক মামলা করতে পারে।

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে একসঙ্গে অবস্থান

পুলিশ ও মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেসবুকের মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে পরিচয় হয় তাজমিনের। গত ৬ অক্টোবর সে কক্সবাজারে যায় এবং কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে রাজুর সঙ্গে অবস্থান করে। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ ও বয়স ১৮ বছর লেখা হয়। সেখানে তাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেয়া হয়েছিলো বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরদিন ৭ অক্টোবর সকালে তারা হোটেল ছেড়ে যান। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজু নিজেই তাজমিনের জন্য কুমিল্লাগামী বাসের টিকিট কেটে দেয়। ওই রাতেই কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফেরার পথে তাজমিন হত্যার শিকার হয়।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাজমিনকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তার লাশ ফেলে রাখা হয়। তবে রাজুর বিরুদ্ধে এ ঘটনায় কী ধরনের আইনগত অভিযোগ আনা হবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তকারীরা জানান, তাজমিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনের কলতালিকা ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সামনে আসে। এ কারণেই তার সঙ্গে কথা বলে হোটেলে অবস্থান ও পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হয়।

ধানখেত থেকে উদ্ধার লাশ

গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা আবদুল আলিম হত্যা মামলা করেন। পরে গত শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেফতার করে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের খোয়া যাওয়া আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্তের বিবরণ অনুযায়ী, তাজমিন কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলো। তার পরিবারের স্থায়ী বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামে। বাবা আবদুল আলিম রেনাটা পিএলসিতে চাকরি করায় পরিবারটি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করত।

পরিবার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর সঙ্গে হাতঘড়ি নিয়ে বিরোধ এবং মায়ের সঙ্গে মনোমালিন্যের পর তাজমিন বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাওয়ার পর রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে কক্সবাজারে পৌঁছায় সে।

তাজমিন হত্যার ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমনের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত চললেও রাজুর ভূমিকা নিয়ে এখনো আইনগত অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কক্সবাজারে তার অবস্থানকালে কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়েছিলো কি না, তা নির্ধারণে পৃথক অভিযোগ বা মামলার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতিতে এ বিষয়ে আরও তথ্য পরিষ্কার হতে পারে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

ঢাকা-দাম্মাম-রিয়াদ ফ্লাইট ফের স্থগিত
সৌদিতে দণ্ডিত আরও ২০ বাংলাদেশি, সাজার তথ্য চাইলো কনস্যুলেট
জাপানের ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাংলাদেশে
রূপগঞ্জে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণ
দিল্লিতে ৭০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদের উদ্যোগ, মসজিদেও নোটিশ
জুলাই স্বীকার, ক্ষমা চাইলেই আ.লীগের রাজনীতি: তথ্যমন্ত্রী
রেকর্ডের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারালো শ্রীলঙ্কা
সিসিইউতে সংকটাপন্ন মঈন খান, দেখতে গেলেন রিজভী
ভারতে পাচার হওয়া ৬ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন
ভারতে তিন খ্রিষ্টান পরিবারকে পূজা পালনে বাধ্য করার অভিযোগ
সাইবার হামলার শঙ্কায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ
বিকিনি পরতে অস্বস্তি হয়: রাশমিকা
সাজেকে গোলাগুলি, নিরাপদে ফিরলেন পর্যটকরা
‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্যকারী শনাক্ত
৩১ অক্টোবর জামায়াতের লংমার্চ, শুরু বায়তুল মোকাররমে
ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে, অভিজ্ঞতা কম: মনি
পণ্যবাহী গাড়ি আটকে লুট-চাঁদাবাজি, ছাত্রদলের ৮ জনকে শোকজ
রাশিয়ার এসইউ-৩০ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, পাইলট অক্ষত