Sobar Desh | সবার দেশ আসমা সরকার


প্রকাশিত: ০০:১৮, ১৯ জানুয়ারি ২০২৫

গল্প

আকাশের চোখ 

আকাশের চোখ 
ছবি: সবার দেশ

(৫ম পর্ব)

আকাশ অফিস থেকে বাসায় এলে দারোয়ান চাবি দিতেই অবাক হলো।কিন্তু কিছু না বলেই উপরে চলে গেলো।।দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করলে বেটা দশরকম ভাবনা ভাববে।কি ব্যাপার "? ম্যাডাম বাইরে গেছে স্যার জানেনা ক্যা? নিশ্চয়ই ঝামেলা হইছে! 

তারপর সারা বিল্ডিং এর যত বুয়া আর ড্রাইভার আছে সবার সাথে একই প্যাচাল পারবে সারাদিন। গেইট পাহারা দেয়া ছাড়া ত আর কাজ নাই,একটা কিছু পেলে সময়টা ভালোভাবে কাটায় এই আর কি।
ঘরে ঢুকেই ফোন দিলো বৃষ্টিকে,,,
কি ব্যাপার? তুমি কথায় গেছো?
আমি আমাদের বাসায় এসছি,,কেনো?
তা আমাকে বলার প্রয়োজন মনে করো নাই? বললে তো আমি ওদিক হয়ে আসতাম।
বলতে চেয়েও বলিনি,,কারণ তুমি অন্য মোহে আছো।আমার বিষয়ে তাই খুব একটা ভাবার সময় তোমার নাই।
বাজে বকোনা বৃষ্টি। আমি খেয়াল করেছি, গতকালকের পার্টি থেকে ফিরে তুমি অস্বাভাবিক আচরণ করছো। কি? সমস্যা  কি??

বৃষ্টি চুপ হয়ে গেলো। আসলেই তো। সমস্যাটা তো সে ব্যাখ্যা করতে পারছেনা আকাশের কাছে। নিজের সাথেই কেবল যুদ্ধ করছে। এই সমস্যা টা এমন একটা সমস্যা,সমাধানের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো উপায় নাই।আপাতত অন্য অজুহাত দেখানোই শ্রেয়। 

আকাশ ফের জানতে চাইলো,,,
কি ব্যাপার? কথা বলছোনা কেনো?
আমি এসছি আমার সার্টিফিকেটগুলো নিতে। দরকার আছে।
তা ঠিক আছে। কিন্তু বলে গেলেই তো হতো। আচ্ছা ঠিক আছে, তুমি কাগজপত্র নিয়ে রেডি থাকো আমি আসছি।

বৃষ্টি আকাশের মুখের উপর না করতে পারলোনা। কেনো পারলোনা সেটা ভেবে সে অবাক হচ্ছে। সে যখন আসে,কিছুদিন থাকবে বলেই এসেছিলো। অথচ এখন আকাশ আসছে শুনে শিহরিত হচ্ছে। এই শিহরণ আতংকের নয়,রাগের নয়,,অনুরাগের। সম্পর্কগুলো মনে হয় এমনই হয়,ইচ্ছে করলেও বাদ দেয়া যায়না,শেষ হয়েও হয়না শেষ।

ফোন রেখে মাকে গিয়ে যখন জানালো আকাশ আসছে,মুহুর্তে বাসার চেহারা বদলে গেলো। মা গিয়ে ফ্রিজ থেকে কি কি নামানো শুরু করলো। শিলাকে তাড়া দিলেন ঘরটা গুছানোর জন্য। কাজের মেয়েকে কি সব কাটাকুটি করতে বলে মা জামা পালটে শাড়িকাপড় পড়লেন। মায়ের এই এক অভ্যাস। যখন থেকে শ্বাশুড়ি হয়েছে,মেয়ে জামাইয়ের সামনে আটপৌরে শাড়ি পরিহিতা রমনী হয়েই যায়। মায়ের কথা হলো,শাড়িতেই বাঙালী নারীর স্বকীয়তা বজায় থাকে।

সাগরকে বাইরে পাঠালেন কি কি আনতে।জামাই আসবে,,,তাই পুরো বাসায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। যতবার আসে ততবারই এমন হয়। পুরুষদের কপাল বটে। মেয়ে যখন এলো, তখন মেয়েই ত,,,কি আর এমন নতুনত্ব! আর জামাই আসতে আসতে পুরনো হয়ে গেলেও কি আদিখ্যেতা। সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে বারান্দায় গিয়ে দাড়ালো বৃষ্টি। আকাশের দিকে তাকিয়ে সাদা মেঘগুলোর দিকে অপলক দৃষ্টি রেখে নিজের সিদ্ধান্তের কথা আরেকবার মনে করে নিলো।

আকাশের আসার কথায় মনে মনে আবেগী হয়ে উঠলেও,নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যাশা বিসর্জন দেয়া যাবেনা।আকাশের মুখ ফসকে বের হওয়া কথাগুলোই বৃষ্টির হৃদয়ে ঝড় তুলেছে, সেই ঝড় কোনো মৌসুমি বায়ুতে যেনো স্তিমিত হয়ে না যায়। (চলবে,,,)

লেখক: কবি ও কথাসাহিত্যিক

শীর্ষ সংবাদ:

খামেনি হত্যার প্রতিশোধের লাল পতাকা উড়ালো ইরান
ইসরায়েলি হামলায় কেঁপে উঠলো ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন
চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে ভরসা প্রাণিসম্পদ খাত, সেবার সংকটে শঙ্কা
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনেই সংসদের যাত্রা শুরু হোক: আসিফ
ইরানে হামলার তীব্র নিন্দা জামায়াত আমিরের
রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেফতারের দাবি নাহিদ ইসলামের
যুক্তরাষ্ট্রে রাতভর গোলাগুলি, নিহত ৩, আহত ১৪
ভারত থেকে দেশে ফিরলো আওয়ামী এমপির লাশ
যশোরে জেলা জজ পদশূন্য, ভারপ্রাপ্ত জজের ওপর অনাস্থা
খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী
কোকো ভাইয়ের অবদান তুলে ধরতে পারিনি—অনুশোচনায় তামিম
হরমুজ প্রণালি বন্ধে বিশ্ব তেলবাজার টালমাটাল-দাম লাফিয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল প্রশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ
বীরগঞ্জে ২ মাদক সেবীর কারাদণ্ড
খাগড়াছড়িতে আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি
আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমেদিনেজাদ নিহত: রিপোর্ট
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র চুরমার করলো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা, নিহত ৮