এস আলমের মামলা লড়ছে ব্রিটিশ ল ফার্ম, ঘণ্টায় খরচ দেড় লাখ টাকা
আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলম ও তার পরিবারের করা মামলার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে ব্রিটিশ একটি ল ফার্ম নিয়োগ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এ ল ফার্মকে ঘণ্টায় ১ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড় লাখ টাকারও বেশি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা আন্তর্জাতিক সালিসি মামলা পরিচালনার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে। মামলাটি বিশ্বব্যাংকের অধীন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিএসআইডি)-এ দায়ের করা হয়েছে। মামলার কেস নম্বর এআরবি/২৫/৫২।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ ল ফার্ম হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপি-কে নিয়োগের অনুমোদন দেয়। তবে এ আইনি সেবার ক্ষেত্রে কত ঘণ্টার কাজ ধরা হবে বা বিলযোগ্য সময় কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, অর্থ পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এস আলম গ্রুপ লন্ডনে মামলা করেছে এবং সে বিষয়টি আইসিএসআইডিতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। এ মামলায় সরকারের পক্ষে আন্তর্জাতিক মানের আইনি লড়াই চালাতে একটি অভিজ্ঞ ল ফার্ম নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং এর সঙ্গে বিপুল অঙ্কের অর্থ জড়িত।
তিনি আরও জানান, এস আলমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা চ্যালেঞ্জ করে আইসিএসআইডি থেকে সরকারকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এর জবাব দিতে হবে।
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত আইসিএসআইডিতে এস আলম ও তার পরিবারের আইনজীবীরা সালিসি মামলার আবেদন করেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার তাদের সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, যার ফলে তাদের শত শত কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সালিসি আবেদনে আরও দাবি করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে তাদের লক্ষ্য করে ব্যাংক হিসাব জব্দ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তদন্ত এবং গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির পরিপন্থী বলেও অভিযোগ করা হয়।
এস আলম পরিবার ২০০৪ সালের বাংলাদেশ–সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় এ সালিসি মামলা করেছে। নথি অনুযায়ী, তারা ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে এবং ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে তারা সিঙ্গাপুরে বসবাস করছে।
সালিসি আবেদনে তারা সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের ১৯৮০ সালের বিদেশি ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আইনের অধীন সুরক্ষার দাবিও তুলেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বড় অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগে একাধিক শিল্পগোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনৈতিক শ্বেতপত্রে অর্থ পাচারের মোট পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে গঠিত টাস্কফোর্সের প্রধান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে এস আলম পরিবার।
সবার দেশ/কেএম




























