হরমুজে নতুন উত্তেজনা
ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’কে ‘প্রজেক্ট ডেডলক’ বললো ইরান
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ উদ্যোগকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি এ মার্কিন পরিকল্পনাকে ‘প্রজেক্ট ডেডলক’ বা অচলাবস্থার প্রকল্প বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে দেয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে রাজনৈতিক সংকটের কোনও সামরিক সমাধান নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, কিছু ‘কু-চক্রী মহল’ ওয়াশিংটনকে আবারও বিপজ্জনক সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যখন কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উচিত উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে—এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা। পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পরপরই হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধ আরোপ করে ইরান। এর পাল্টা জবাবে ১৩ এপ্রিল ইরানি বন্দর ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ আরোপ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এরই ধারাবাহিকতায় উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়া আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল সচল করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে সামরিক-নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এ অভিযানে গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক বিমান, বহুমাত্রিক ড্রোন প্ল্যাটফর্ম এবং প্রায় ১৫ হাজার সেনাসদস্য অংশ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য বলে দাবি ওয়াশিংটনের।
তবে ইরান এ পদক্ষেপকে সরাসরি উসকানি হিসেবে দেখছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-র রাজনৈতিক শাখার উপপ্রধান ইয়াদুল্লাহ জাভানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনও হস্তক্ষেপ ইরান পূর্ণ শক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে।
ইরানি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যতম বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে হরমুজ উন্মুক্ত করা। ৪০ দিনের যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও যুক্তরাষ্ট্র নানা চেষ্টা চালিয়েও সফল হয়নি।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে এ পাল্টাপাল্টি অবস্থান নতুন করে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সমাধান ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
সূত্র: Al Jazeera, BBC, Anadolu Agency
সবার দেশ/কেএম




























