জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই থার্ড টার্মিনাল দিচ্ছে সরকার
জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামের কাছে হস্তান্তর করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
শুক্রবার জাপানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বর্তমানে রাজস্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েই মূলত আলোচনা চলছে। পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হবে। এজন্য আবারও আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, সরকার দ্রুততম সময়ে টার্মিনালটি চালু করতে চাইলেও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। সে কারণেই ধারাবাহিকভাবে আলোচনার টেবিলে বসছে উভয় পক্ষ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আলোচনায় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধিত প্রস্তাবের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে এমবার্কেশন ফি, অগ্রিম অর্থ প্রদান এবং রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জাপানি পক্ষকে বাংলাদেশের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করে সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী এবং আলোচনার প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
বৈঠকে অংশ নেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। জাপানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো।
কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই চুক্তি চূড়ান্ত করতে উভয় পক্ষই আর্থিক ও পরিচালনাগত বিষয়গুলোতে সমাধানের পথ খুঁজছে। আগামী সোমবার আবারও দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ টার্মিনালটি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা)-এর অর্থায়নে তৈরি হয়েছে। প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এ আধুনিক টার্মিনাল চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা যুক্ত হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর দ্রুত টার্মিনালটি চালু করতে উচ্চপর্যায়ে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা ২০২৭ সালের শুরুতেই টার্মিনালটির উদ্বোধন হতে পারে।
সবার দেশ/কেএম




























