Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:৩৩, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বদলির পরও চার্জশিট, মোহাম্মদপুরে এসআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত

বদলির পরও চার্জশিট, মোহাম্মদপুরে এসআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলি হয়ে সিসি নেয়ার পরও ওই থানার একটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মাহিদুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করে বদলির পরদিন এ চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান এ ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নথি পর্যালোচনায় জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাহিদুল ইসলামকে তেজগাঁও থানায় বদলির আদেশ দেন। এরপর ১৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানা থেকে বদলিজনিত প্রস্থান বা সিসি নেন তিনি।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, কোনও কর্মকর্তা সিসি নেয়ার পর সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে তার দায়িত্বগত সম্পর্ক শেষ হয়। একই সঙ্গে সিডিএমএসে তার নিজস্ব ব্যবহারকারী পরিচয়পত্রও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। সিসি নেয়ার আগ পর্যন্ত তদন্তাধীন মামলায় চার্জশিট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু সিসি নেয়ার পর সংশ্লিষ্ট মামলায় তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকার কথা নয়।

তবে মোহাম্মদপুর থানার এ বছরের জানুয়ারি মাসের ৩ নম্বর মামলার নথিতে দেখা যায়, ১৮ এপ্রিল সিসি নেয়ার পরদিন ১৯ এপ্রিল ওই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন এসআই মাহিদুল ইসলাম। অভিযোগপত্রটির নম্বর ২৫৮।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২ জানুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত পাইলট সৈয়দ নাজিম মাহমুদ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩৮৫, ৩৮৬ ও ৩৪ ধারায় করা মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন এসআই মাহিদুল ইসলাম।

মামলা হওয়ার প্রায় চার মাসের মধ্যে তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। কিন্তু অভিযোগপত্র দাখিলের সময় মাহিদুল ইসলাম আর মোহাম্মদপুর থানায় কর্মরত ছিলেন না। এর আগেই তিনি বদলির আদেশ পেয়ে ১৮ এপ্রিল সিসি নিয়ে থানা ছাড়েন।

এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করে মাহিদুল ইসলাম অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদপুর থানার তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সঙ্গে তার যোগসাজশ ছিলো কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১৮ এপ্রিল তিনি সিসি নিয়েছেন, এটি সঠিক। তবে নিয়ম মেনেই চার্জশিট দিয়েছেন। তার ভাষ্য, তিনি রাত ১২টার আগে সিডিএমএসে এন্ট্রি দিয়েছিলেন; কোনও ত্রুটির কারণে সেটি পরদিন গ্রহণ করা হয়েছে।

ওসি মেজবাহ উদ্দিনের সিডিএমএস আইডি ব্যবহার করে চার্জশিট দাখিলের অভিযোগও অস্বীকার করেন মাহিদুল। তার দাবি, তিনি ওই আইডি ব্যবহার করেননি।

অন্যদিকে তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে তিনি ডিবি রমনায় কর্মরত। তার দাবি, একই বিভাগের মধ্যে বদলি হওয়ায় সিসি নেয়ার পরও মাহিদুল চার্জশিট দিতে পারেন এবং তার সিডিএমএস আইডি লক হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইডি লক হয়ে থাকলে মাহিদুল কীভাবে চার্জশিট দাখিল করলেন।

নিজের সিডিএমএস ব্যবহার করে চার্জশিট দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে মেজবাহ উদ্দিন বলেন, মাহিদুল তার ব্যবহারকারী পরিচয়পত্র ও পাসওয়ার্ড জানার কথা নয়।

এদিকে বিষয়টি মামলার বিচারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

তিনি বলেন, যে থানায় কোনও পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব বা পোস্টিং নেই, সে থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। কোনও কর্মকর্তা থানা থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে বদলি হয়ে যাওয়ার পরদিন একই মামলার চার্জশিটে স্বাক্ষর করলে ওই দিন তার সংশ্লিষ্ট থানায় দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব ছিলো কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মনজিল মোরসেদের মতে, এ ধরনের ত্রুটি থাকলে বিচারপর্বে আসামিপক্ষ বিষয়টি তুলে ধরতে পারে। তখন তদন্ত কর্মকর্তার চার্জশিট দাখিলের আইনগত কর্তৃত্ব ছিলো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এতে মামলাটি দুর্বল হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এ ধরনের কোনও কাজ করা হয়ে থাকলে সেটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পক্ষে বিবেচ্য হতে পারে। তবে অনুমতি ছাড়া দায়িত্বে না থাকা থানার মামলায় প্রতিবেদন দাখিল করা হলে তা দায়িত্বে অবহেলা বা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। এখানে কারও গাফিলতি আছে কি না, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত এবং আইনগতভাবে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত শেষ হলে সিসি নেয়ার পর এসআই মাহিদুল ইসলাম কীভাবে চার্জশিট দাখিল করেছেন, তার সিডিএমএস আইডি কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় তৎকালীন ওসি মেজবাহ উদ্দিনের কোনও সংশ্লিষ্টতা ছিলো কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

বদলির পরও চার্জশিট, মোহাম্মদপুরে এসআইয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত
ফ্লাইটের আগে মদ্যপ অবস্থায় এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট আটক
নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করা দেশের তালিকা প্রকাশ ইসরায়েলের
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশন নিয়ে জামায়াতের প্রশ্ন
আপা আপা করিস না, আপা আর আসবে না-স্লোগান হবিগঞ্জ বিএনপির
ভেরিফিকেশনের নামে তরুণের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করা হয়েছে: নাহিদ ইসলাম
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাষণ
বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাইডলাইন বৈঠক
ফিফা সংস্কারের দাবি ইউরোপের শীর্ষ চার লিগের
ককটেল সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা গ্রেফতার
রাতে বাইরে, ভোরে কারাগারে-এটা দেখাই আমার জন্য কাল হয়েছে: তানভীর
দুর্গাপূজায় টানা ৭ দিনের ছুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিইসির পদত্যাগ দাবি, ভারতজুড়ে আন্দোলনের হুমকি
৩ মডেলের আইফোন ব্যবহারকারীরা পাবেন ত্রিশ হাজার কোটি টাকা
লঞ্চ ভাড়া বাড়লো ৮ শতাংশ, বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর
নেতানিয়াহুর বক্তব্যে জাতিসংঘে ব্যাপক ওয়াকআউট