কৃষক কার্ডে জানা যাবে বৃষ্টির আগাম পূর্বাভাস: প্রধানমন্ত্রী
৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা মোবাইল ফোনে জানতে পারবেন, পরদিন তাদের এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না। পাশাপাশি কৃষি উপকরণে সহায়তা, ফসলের বিমা এবং ব্যাংকঋণ পাওয়ার সুযোগসহ প্রায় ১০ ধরনের সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, কৃষি ও কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এ কারণে কৃষকদের আর্থিক ও উৎপাদনসংক্রান্ত সহায়তা দিতে কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি, প্রান্তিক, ভূমিহীন ও বড় কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তালিকা তৈরির কাজ শেষ হলে ধাপে ধাপে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪০ লাখ কৃষককে এ কার্ড দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
কৃষি উৎপাদনের ব্যয় কমানো এবং কৃষকদের আর্থিক চাপ লাঘবের বিষয়েও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও কৃষক বছরে দুটি ফসল উৎপাদন করেন, আবার কেউ তিনটি ফসল ফলান। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে অন্তত একটি ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও কীটনাশক কৃষকের কাছে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবে সরকার। এর মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, কৃষক কার্ড শুধু কৃষি উপকরণ পাওয়ার মাধ্যম হবে না; এর সঙ্গে আরও কয়েকটি সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ফসলের বিমা অন্যতম। কোনও কৃষক এ কার্ডের মাধ্যমে তার জমির ফসলের বিমা করতে পারবেন। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনও কারণে ফসলের ক্ষতি হলে বিমার শর্ত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কৃষকদের ব্যাংকঋণ পাওয়ার বিষয়টিও কৃষক কার্ডের সুবিধার মধ্যে রাখার পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষ্য, কোনও কৃষকের ব্যাংকঋণের প্রয়োজন হলে এ কার্ডের মাধ্যমে সহজে ঋণ গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হবে। এতে কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহে কৃষকদের সুবিধা হতে পারে।
কৃষিতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে কমবেশি সবার হাতেই মোবাইল ফোন রয়েছে। কৃষক কার্ডের সঙ্গে এ প্রযুক্তিকে যুক্ত করা হলে কৃষকেরা মোবাইল ফোনে তাদের এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে পারবেন। পরদিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, সে তথ্যের ভিত্তিতে তারা জমিতে বীজ বপন কিংবা সার প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
আবহাওয়ার আগাম তথ্য কৃষকদের চাষাবাদের পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে বৃষ্টিনির্ভর কৃষিকাজে সঠিক সময়ে বীজ বপন, সার প্রয়োগ ও অন্যান্য পরিচর্যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ১০ ধরনের সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব সুবিধার বিস্তারিত বিবরণ, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং কোন প্রক্রিয়ায় কৃষকেরা সুবিধাগুলো পাবেন, তা বক্তব্যে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়নি।
কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেয়ার প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কর্মসূচির সুফল নির্ভর করবে কৃষকদের সঠিক তালিকা তৈরি, কার্ড বিতরণ, কৃষি উপকরণের প্রাপ্যতা, বিমা সুবিধার শর্ত এবং আবহাওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর।
সবার দেশ/এফও




























