মিয়ানমার থেকে রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে আনছে ঢাকা
বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মো. মনোয়ার হোসেনকে অবিলম্বে ঢাকায় ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করলেও রাষ্ট্রদূতকে হঠাৎ করে সরিয়ে নেয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূত মনোয়ার হোসেনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ব্যাখ্যা বা মন্তব্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনও পাওয়া যায়নি।
মো. মনোয়ার হোসেন ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। মনোয়ার হোসেন ২০তম বিসিএসের ফরেন সার্ভিস ক্যাডারের কর্মকর্তা।
সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে মিয়ানমারে চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, সীমান্তে সংঘাত, রোহিঙ্গা ইস্যু, বা রাষ্ট্রদূতের কোনো কূটনৈতিক ব্যর্থতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড জড়িত থাকতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও মগ জনগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, এবং তাৎপর্যপূর্ণ কারণ না থাকলে এত উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে আচমকা সরিয়ে নেয়া হয় না।
রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা ও সাম্প্রতিক বিতর্ক
মিয়ানমারে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোয়ার হোসেনের কূটনৈতিক কার্যক্রম বা অবস্থান নিয়ে গত কয়েক মাসে কোনো প্রকাশ্য বিতর্ক না থাকলেও, কিছু গণমাধ্যম রিপোর্টে দেখা গেছে তিনি সরকারের প্রত্যাশামতো সক্রিয় ছিলেন না। বিশেষ করে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতিতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখছিলেন না বলে অভিযোগ রয়েছে বলেও কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিলো।
নেপথ্যে অন্য কোনো বার্তা?
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রদূত মনোয়ার হোসেনকে তলব করে সরকার হয়তো মিয়ানমার সামরিক জান্তাকে একধরনের কূটনৈতিক বার্তাও দিতে চাইছে—যে বাংলাদেশ সীমান্তে মিয়ানমারের অপেশাদার আচরণকে গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। অথবা এটি অভ্যন্তরীণ কোনো প্রশাসনিক কারণে, যেখানে রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে আনুগত্যভ্রষ্টতা বা আচরণগত অসঙ্গতির অভিযোগ থাকতে পারে।
যে-ই হোক, একজন রাষ্ট্রদূতকে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছরের মধ্যেই এভাবে হঠাৎ সরিয়ে নেয়া সাধারণ ঘটনা নয়। এটি শুধু প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং একটি কূটনৈতিক ইঙ্গিত। সরকার যদি পরবর্তী পদক্ষেপে কোনও তদন্ত কমিটি গঠন বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়, তাহলে প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে। আপাতত, রাষ্ট্রদূত মনোয়ার হোসেনকে ঢাকায় ডেকে আনার সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে—বিশেষত মিয়ানমার ঘিরে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক রূপরেখার প্রেক্ষিতে।
সবার দেশ/কেএম




























