আইসিইউতে ৮ জন, চিকিৎসায় সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক দল; মৃতের সংখ্যা নি
বিমান দুর্ঘটনায় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ৪২ জন, আশঙ্কাজনক ৬
ঢাকার উত্তরা এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪২ জন। তাঁদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত দুই দিনে ইন্টারমিডিয়েট ক্যাটাগরিতে থাকা ২৩ জন রোগীর মধ্যে ১৩ জনের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাঁদের অনেককেই অল্প কিছুদিনের মধ্যে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।
অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, "পোড়া রোগীদের অবস্থা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বর্তমানে সিভিয়ার ক্যাটাগরির ১৩ রোগীর মধ্যে কয়েকজনের অবস্থার উন্নতি হতে পারে বলে আমরা আশা করছি।"
এ ছাড়া বর্তমানে ৮ জন রোগী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসা-পরিকল্পনা প্রসঙ্গে অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, সিঙ্গাপুর ও ভারতের চিকিৎসকদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। মাল্টিডিসিপ্লিনারি বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিটি চিকিৎসাবিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। চীন থেকে আগত চিকিৎসক দলের সঙ্গেও শুক্রবার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ইনস্টিটিউটে রক্ত বা স্কিন ডোনেশনের প্রয়োজন নেই। আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও নেই, কারণ চিকিৎসা সংক্রান্ত সব খরচ সরকারই বহন করছে।
গত সোমবার দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ৩১ জনের মৃত্যুর এবং ১৬৫ জনের আহত হওয়ার তথ্য দেয়।
পরে আহতদের মধ্যে আরো তিনজনের মৃত্যু হলে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪।
তবে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার হালনাগাদ তথ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নিহতের সংখ্যা ২৯ জন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে আরো দুইজনের মৃত্যু হলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩১।
অন্যদিকে, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত হন এবং পরবর্তীতে বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। তাদের হিসাব অনুযায়ী, মোট মৃতের সংখ্যা ২৪।
এমতাবস্থায় ঘটনাটির প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা নির্ধারণে সমন্বিত হালনাগাদ চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো প্রত্যাশিত।
সবার দেশ/এফএস




























