কাঠামো প্রস্তুত করে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার
নতুন পে-স্কেল নির্বাচনের আগে নয়
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরকারি কর্মচারীদের জন্য কোনও চূড়ান্ত বেতন কাঠামো অনুমোদন দেয়া হবে না। তবে নতুন পে-স্কেলের একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক ও সুপারিশমালা প্রস্তুত করে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য রেখে যাবে বর্তমান সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পে-কমিশনের সর্বশেষ বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। কমিশনের হাতে সময় খুব সীমিত, কারণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ কারণে দ্রুততার সঙ্গে সুপারিশ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ২১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় সুপারিশ চূড়ান্ত হলে তা সঙ্গে সঙ্গেই সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কোনও সম্ভাবনা নেই। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেয়াই যুক্তিযুক্ত এবং বাস্তবসম্মত।
পে-কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ধরা হয়েছে ২১ হাজার টাকা। দ্বিতীয় প্রস্তাবে ১৭ হাজার টাকা এবং তৃতীয় ও শেষ প্রস্তাবে ১৬ হাজার টাকা সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এ তিনটির যেকোনও একটি চূড়ান্ত সুপারিশ হিসেবে রাখা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে পে-কমিশন গঠন করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বেতন কাঠামো ঘোষণা সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকার বর্তমানে প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকায় নতুন পে-স্কেল কার্যকরের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হচ্ছে। তবে কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর একটি কাঠামোগত সুপারিশ চূড়ান্ত করে বিদায় নেবে বর্তমান সরকার। পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে তা অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করবে।
এ নতুন পে-স্কেল কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে থাকবেন।
এদিকে কমিশনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোতে বেতনের অনুপাত নিয়ে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব করা হয়েছিলো—১:৮, ১:১০ এবং ১:১২। আলোচনার পর ১:৮ অনুপাতকে প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ অনুপাতের অর্থ হলো, সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতনের ব্যবধান। অর্থাৎ, যদি ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারীর মূল বেতন ১০০ টাকা ধরা হয়, তবে ১:৮ অনুপাতে সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন হবে ৮০০ টাকা।
নতুন পে-স্কেলে বেতনের অনুপাতের পাশাপাশি সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সর্বনিম্ন বেতন ২১ হাজার, ১৭ হাজার অথবা ১৬ হাজার টাকা—এ তিনটি বিকল্পের মধ্য থেকেই চূড়ান্ত প্রস্তাব আসতে পারে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা ২০১৫ সালের জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ওই পে-স্কেলে মোট ২০টি গ্রেড রয়েছে এবং প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। নতুন বেতন কাঠামোতে গ্রেডের সংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান বেতন কাঠামোর বিভিন্ন বৈষম্য দূর করার জন্য পে-কমিশনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর নতুন পে-স্কেল ঘোষণার রেওয়াজ থাকলেও বিগত সরকার সে প্রথা বাতিল করেছিলো। ফলে সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে তাদের দাবি। এ প্রেক্ষাপটে অনেক কর্মচারীর মত, ২০২০ ও ২০২৫ সালের পে-স্কেল একসঙ্গে কার্যকর করা হলে তাদের বেতন অন্তত ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়া উচিত।
তবে কমিশন সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি ও বর্তমান বাস্তবতা এক নয়। তাই দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করা হবে।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সম্ভাবনা না থাকলেও সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি নতুন বেতন কাঠামোর রূপরেখা তৈরি করে যাওয়ার পথে এগোচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন সবকিছু নির্ভর করছে কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।
সবার দেশ/কেএম




























