হাসপাতাল প্রস্তুত থাকার নির্দেশ
দেশের ৩৫ জেলায় ছড়িয়েছে নিপাহ ভাইরাস
দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে নিপাহে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানায়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজন মারা গিয়েছিলেন। ওই বছর একই সংখ্যক মানুষ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআরের মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক তাহমিনা শিরীন।
আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, প্রতিবছর শীতকালে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা যায়। এটি অত্যন্ত মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস, যার আক্রান্তের প্রায় ৭২ শতাংশই মারা যায়। সাধারণত কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হয়, এবং প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ায়। চিকিৎসা বা টিকা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি।
ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি। ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সভায় জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলছেন, কাঁচা খেজুরের রস খাওয়া এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব।
নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়:
- কাঁচা খেজুরের রস পান করা যাবে না।
- আংশিক খাওয়া বা পোকা পড়া ফল খাওয়া যাবে না।
- ফলমূল ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে খেতে হবে।
- নিপাহ রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যেতে হবে।
- আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
সবার দেশ/কেএম




























