১৫০ যাত্রী নিয়ে উড়লো বিমানের প্রথম ফ্লাইট
শুরু হলো ঢাকা-করাচি বিমান চলাচল
দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে। জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-করাচি-ঢাকা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে, যেখানে উদ্বোধনী ফ্লাইটে প্রায় ১৫০ যাত্রী যাত্রা করেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিজি-৩৪১ ফ্লাইট করাচির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রা শেষে এটি স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে করাচিতে পৌঁছে।
একইদিন করাচি থেকে বিজি-৩৪২ ফ্লাইট রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানোর সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফ্লাইট চালু উপলক্ষে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজন করা হয় বিশেষ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান শেখ বশিরউদ্দীন।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ইমরান হায়দার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. মো. সাফিকুর রহমান।
সাপ্তাহিক দুই ফ্লাইট, পরীক্ষামূলকভাবে চালু
শীতকালীন সূচি অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রতি সপ্তাহে দুই দিন—বৃহস্পতিবার ও শনিবার—এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালু রাখা হবে এবং যাত্রী চাহিদা ও পরিচালনাগত সক্ষমতার ভিত্তিতে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এ রুট চালুর আগে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যাত্রীদের অধিকাংশকেই দুবাই বা দোহাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হাব হয়ে ভ্রমণ করতে হতো। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় ভ্রমণ সময় কমবে, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন এবং পারিবারিক যোগাযোগ সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা-করাচি রুটে এটি ২০১২ সালের পর প্রথম নিয়মিত সরাসরি ফ্লাইট। প্রায় ১৩-১৪ বছর বন্ধ থাকার পর আবার এ আকাশ যোগাযোগ চালু হলো, যা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ফ্লাইট চালু শুধু যাত্রী পরিবহন নয়—এটি দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংযোগ পুনরুদ্ধারকে ইতিবাচক কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সবার দেশ/কেএম




























