এক দিনে সীমান্তে ১২৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিরোধ করেছে বিজিবি
দেশের সীমান্তের ১১টি পৃথক পয়েন্ট দিয়ে ১২৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার (পুশইন) চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো এসব প্রচেষ্টা কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রতিরোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিজিবির পক্ষ থেকে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, খুলনা ও ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলার সীমান্তবর্তী ১১টি পয়েন্টে এসব পুশইনের চেষ্টা হয়।
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেয় এবং তারা ফিরে যায় বলে জানানো হয়। একই এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে থাকা ৩০ থেকে ৩৫ জনকে সীমান্ত গেট খুলে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করা হলেও বিজিবির প্রতিরোধে তা ব্যর্থ হয়।
খুলনা ও যশোর সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশ্যে আনা হলেও বিজিবির উপস্থিতিতে তাদের সরিয়ে নেয় বিএসএফ। জয়পুরহাট ও পঞ্চগড় সীমান্তেও একই ধরনের চেষ্টার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানায় বিজিবি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় একাধিক হোল্ডিং সেন্টারে আটক ব্যক্তিদের পুশইনের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়ার পর সেখানে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে বিএসএফ নিজেদের হেফাজতে রাখার বিষয়েও এখনও আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি বলে বিজিবি জানিয়েছে।
সিলেট ও নেত্রকোনা সীমান্তে স্থানীয়ভাবে আটক কিছু ব্যক্তিকে যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী ফেরত পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে ২৮ জন ব্যক্তি শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে বিজিবি। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। দুদফা পতাকা বৈঠকেও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তের ওপারে কাঁটাতারের বেড়া ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করা হয়, পরে তারা শূন্যরেখায় আটকা পড়ে যায়।
বিজিবি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা অনুযায়ী এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
সবার দেশ/কেএম




























