Sobar Desh | সবার দেশ সবার দেশ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৪৬, ৫ নভেম্বর ২০২৬

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন

জামায়াতের সঙ্গে জোট, নারী অধিকার অবমূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রহীনতার অভিযোগ।

এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন
ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট রাজনীতি, দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চার অভাব, নারী অধিকার অবমূল্যায়ন এবং পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির অভিযোগ তুলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির নেত্রী সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে দেয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে সামান্তা শারমিন বলেছেন, এনসিপি প্রতিষ্ঠার সময় যে রাজনৈতিক মূল্যবোধ, সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, দলটি এখন আর সেসবের প্রতি আন্তরিক নেই। গত প্রায় এক বছর ধরে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নিজের মতপার্থক্য, আপত্তি ও প্রস্তাব তুলে ধরলেও নেতৃত্ব সেগুলো আমলে নেয়নি। ফলে দলের ভেতরে থেকে রাজনৈতিক ও আদর্শিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

বিবৃতিতে সামান্তা শারমিন বলেন, প্রায় এক বছর আগে এনসিপির জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন। তখনই তিনি জানিয়েছিলেন, জামায়াতে ইসলামী নীতিগত কিংবা কৌশলগত কোনও বিবেচনাতেই এনসিপির মিত্র হওয়ার উপযুক্ত নয়। দলটি জামায়াতের সঙ্গে জোট করলে তার জন্য বড় রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।

তিনি জানান, গত ১১ মাসে দলের অতীত কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ, প্রস্তাব এবং আলোচনা করেছেন। দলের ভুল সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের উদ্দেশ্যেই অভ্যন্তরীণ আদর্শিক লড়াই চালিয়ে গেছেন। তবে এখন তার উপলব্ধি, এনসিপির পক্ষে প্রতিষ্ঠাকালীন মূল্যবোধে ফিরে যাওয়া আর সম্ভব নয়।

সামান্তা শারমিনের মতে, কোনও একটি সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে পদত্যাগ করলে বিষয়টি সহজে ব্যাখ্যা করা যেতো। কিন্তু এনসিপি ভবিষ্যতে জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগ করলেও দলটি পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারবে বলে তিনি মনে করেন না।

বিবৃতিতে পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি চারটি প্রধান বিষয় তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো জামায়াতের সঙ্গে জোটের রাজনৈতিক যৌক্তিকতা, ২০২৬ সালের নির্বাচনে এনসিপির কৌশল, গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা ও অধিকার উপেক্ষা এবং কাউন্সিল ছাড়াই দলের পুনর্গঠন।

জামায়াত সংস্কারের মিত্র হতে পারে না

জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিরোধিতা করে সামান্তা শারমিন বলেন, এনসিপির রাজনীতির মূল ভিত্তি ছিলো রাষ্ট্র সংস্কার। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য সাংবিধানিক সংস্কার, আইনের সংস্কার এবং রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের কাঠামোগত সংস্কার জরুরি ছিলো। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এ তিনটি বিষয়কে নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গ্রহণ করেনি।

তার অভিযোগ, জামায়াত প্রকৃত অর্থে সংস্কারের রাজনীতি ধারণ করে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের প্রয়োজনেই দলটি সংস্কারের কথা বলে। জামায়াতের প্রস্তাবিত রাষ্ট্রব্যবস্থা উদার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সামান্তা শারমিনের দাবি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত ভিন্ন ধরনের কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে জামায়াতের। ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়া এবং সে অবস্থানের পরিবর্তন না হওয়াকে তিনি দলটির রাজনৈতিক ও দার্শনিক ভিত্তির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এনসিপি যখন জামায়াতকে সংস্কারের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করেছে, তখন উদার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সাধারণ মানুষ দলটির রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে এনসিপি নিজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান হারাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে দলটিকে জামায়াতের অবস্থানের অনুসারী ও সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে দলকে ফিরিয়ে আনতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও নেতৃত্ব তার বক্তব্য গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নির্বাচনী জোটে নিজস্ব রাজনীতি হারিয়েছে এনসিপি

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়েও এনসিপির কৌশলের সমালোচনা করেছেন সামান্তা শারমিন। তার মতে, এ নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন না হয়ে দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করতে পারতো।

১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৭০ ও ১৯৯০ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এসব সময়ের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ শুধু ক্ষমতার পালাবদলে সীমাবদ্ধ ছিলো না; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের রাজনৈতিক গতিপথেও পরিবর্তন এনেছিলো।

কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনকে গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা থেকে সরিয়ে সাধারণ ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচনে পরিণত করার চেষ্টা করেছে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলো। এ পরিস্থিতিতে এনসিপির সামনে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার সুযোগ ছিলো। প্রয়োজনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়েও নতুন রাজনৈতিক শক্তির পরিচয় তুলে ধরতে পারতো দলটি।

সামান্তা শারমিনের অভিযোগ, এনসিপি সে সুযোগ কাজে না লাগিয়ে বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এতে দলটির নিজস্ব রাজনীতি এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক ধারার সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ১১ দলীয় ঐক্যে অংশ না নিয়েও নির্বাচনের পর দলটি যে রাজনৈতিক প্রভাব অর্জন করেছে, তার চেয়ে বেশি প্রভাব তৈরির জন্য অন্তত পাঁচটি বিকল্প কৌশল তিনি নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু সেগুলো বিবেচনা করা হয়নি।

তার মতে, 

রাজনৈতিক বিজয়ের চেয়ে নির্বাচনী জয়কে বেশি গুরুত্ব দেয়ার কারণে এনসিপি সংস্কারহীন নির্বাচনী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার নৈতিক ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাও হারিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শহীদ ওসমান হাদির নির্বাচনী প্রচারণার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সামান্তা শারমিন বলেন, ঢাকার একটি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ আসনে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে ওসমান হাদি এককভাবে নতুন ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তার লক্ষ্য ছিলো অন্তত ৫০০ ভোট পাওয়া। অথচ পরে বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করার যুক্তি হিসেবে তার মৃত্যুর ঘটনাকে ব্যবহার করা হয়েছে। তার মতে, এ সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

নারীর অধিকার উপেক্ষার অভিযোগ

এনসিপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিস্তৃত অভিযোগগুলোর একটি তুলে ধরেছেন সামান্তা শারমিন গণঅভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা ও রাজনৈতিক অধিকার প্রসঙ্গে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নারীরা শুধু অংশগ্রহণকারী ছিলেন না; তারা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, সম্মুখসারির যোদ্ধা ও প্রতিরোধের রক্ষাকর্তা হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। ব্যারিকেডের সামনে তাদের অবস্থান, সাহস ও সক্রিয়তা আন্দোলনকে সর্বজনীন রূপ দিয়েছিলো।

তার মতে, নারীদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, ন্যায্য হিস্যা এবং বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থানই ছিল আন্দোলনে তাদের অংশগ্রহণের অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর পুরোনো রক্ষণশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলো নারীদের রাজনৈতিক মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা শুরু করে। আন্দোলনের সময় যেসব সামাজিক প্রতিবন্ধকতা নারীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে পারেনি, বিজয়ের পর সেগুলোকেই আবার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে।

সামান্তা শারমিনের অভিযোগ, 

এনসিপির সামনে পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে গিয়ে নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিলো। কিন্তু দলটি সে সুযোগ কাজে লাগায়নি। নারীদের শুধু সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিবর্তে নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সাংগঠনিক ক্ষমতায় তাদের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিলো।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫১ শতাংশ নারী। তাদের মতামত উপেক্ষা করা মানে শুধু দলের নারী সদস্যদের অবমূল্যায়ন নয়, বরং দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাইরে রাখা।

তার মতে, বাংলাদেশের মতো সমাজে নারীদের এগিয়ে নিতে ইতিবাচক বৈষম্য বা বিশেষ সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধু নারী-পুরুষের সমান সুযোগের কথা বললে বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামোর কারণে নারীরা পিছিয়ে থাকবেন। এজন্য নেতৃত্ব, প্রতিনিধিত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

বিবৃতিতে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে নারীদের সামনে রেখে তাদের সাহস ও আত্মত্যাগকে কাজে লাগানো হলেও বিজয়ের পর তাদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও ন্যায্য অধিকার কেনো স্বীকার করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় নারীরা পুরুষদের রক্ষাকর্তা হিসেবে ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের এ ভূমিকা প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক ক্ষমতাসম্পর্ককে চ্যালেঞ্জ করেছিলো। কিন্তু বিজয়ের পর তাদের মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা উপেক্ষা করা হয়েছে।

সামান্তা শারমিনের অভিযোগ, জামায়াত ও অতি-ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির রক্ষণশীল অবস্থানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এনসিপির অবস্থানের মিল তৈরি হয়েছে। ফলে নারীবিরোধী প্রবণতা শুধু বিচ্ছিন্ন কিছু সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকেনি; দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াতেও এর প্রভাব পড়েছে।

কাউন্সিল ছাড়াই পুনর্গঠনের সমালোচনা

এনসিপির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সামান্তা শারমিন। তার অভিযোগ, নিয়মিত কাউন্সিল আয়োজন না করে আবারও আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলটি পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর চর্চার পুনরাবৃত্তি করেছে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানুষ এমন একটি রাজনৈতিক দলের প্রত্যাশা করেছিলো, যার নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রচলিত দলগুলোর চেয়ে আলাদা হবে। সেখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নেতৃত্ব, ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, পরিবারতন্ত্র, স্বজনপ্রীতি, অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব এবং ভিন্নমত দমনের কোনও জায়গা থাকবে না।

কিন্তু কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন না করে আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন করায় দলের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সামান্তা শারমিনের মতে, নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল আয়োজন একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও জবাবদিহির অন্যতম ভিত্তি। কাউন্সিল না হলে নেতৃত্বের বৈধতা, প্রতিনিধিত্ব ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপি কাউন্সিল এড়িয়ে পুনরায় আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে ভিন্নমত দমনের পুরোনো রাজনৈতিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। এতে দলটির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের প্রতি নেতৃত্বের অনাগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে।

তার মতে, যে দল নিজের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে না, সে দলের পক্ষে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতার দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিভাজনের বদলে ঐক্যের রাজনীতির আহ্বান

পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরেছেন সামান্তা শারমিন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভাজনের বিপরীতে ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।

তার মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিলো এমন একটি রাজনৈতিক শক্তির উত্থান, যা ভিন্নমত, ভিন্ন বিশ্বাস ও ভিন্ন পরিচয়ের মানুষকে একটি অভিন্ন জাতীয় আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করবে। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এনসিপিকে ঘিরে মানুষের সে প্রত্যাশা থাকলেও দলটির সংকীর্ণ রাজনৈতিক হিসাব ও সিদ্ধান্তের কারণে সম্ভাবনাটি ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে।

তবে একটি দলের কিংবা কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে গেলেও মানুষের নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করেন তিনি।

সামান্তা শারমিন বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি, যার মূল লক্ষ্য হবে মানুষকে বিভক্ত করা নয়, বরং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অভিন্ন অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ করা। এ ঐক্যের ভিত্তি কোনও বিশেষ মতাদর্শ, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা একক রাজনৈতিক বিশ্বাস হতে পারে না।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, 

ভারতবিরোধিতা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নেয়া কিংবা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতা করতে গিয়ে চীনের স্বার্থের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান মিলিয়ে ফেলা স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের রাজনীতি হতে পারে না।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে কোনও চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হলে যেমন তার বিরোধিতা করতে হবে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন কিংবা অন্য কোনও দেশের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করতে হবে। কোনও একটি দেশের ক্ষেত্রে আপসহীনতা এবং অন্য দেশের ক্ষেত্রে নীরবতা দ্বৈত মানদণ্ডের পরিচয়।

দেশীয় অর্থনীতি ও নারীর অধিকার নিয়েও নতুন রাজনৈতিক শক্তির সুস্পষ্ট অবস্থান থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। জাতীয় পুঁজির বিকাশ, দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং দেশের সম্পদ ও নীতিনির্ধারণে জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একই সঙ্গে নারীর স্বাধীন রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে রাজনৈতিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

শেষে সামান্তা শারমিন বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের সামনে এখন শুধু নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের চ্যালেঞ্জ নেই; বরং এমন একটি রাজনৈতিক ঐক্য তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু বিভাজন রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হবে না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক থাকবে, তবে বাংলাদেশের স্বার্থের ঊর্ধ্বে কোনও বিদেশি শক্তির অবস্থান থাকবে না।

তিনি জানান, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এ রাজনৈতিক উদ্যোগে কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে বিস্তারিত মতবিনিময় করতে চান। এ লক্ষ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন রাজনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তিনি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রকল্প এগিয়ে নিতে চান।

সবার দেশ/কেএম

শীর্ষ সংবাদ:

পরীমনির বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ
‘ওই নারী আমার স্ত্রী নন’, দাবি রনির
৭ নভেম্বর ছুটি সব পোশাক কারখানায়
এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন
৭ নভেম্বরের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে
বাংলাদেশকে অভিবাসনের গন্তব্য করতে চান স্পিকার
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ভোটারদের রায়, শুরু পতনের অধ্যায়
সেন্টমার্টিনে আজ থেকে চলবে ৩ পর্যটকবাহী জাহাজ
নিশো-মেহজাবীনের ‘অপলক’
মেসি-রোনালদোসহ ২৬ তারকা ভোটযুদ্ধের মহড়ায়
ছুরিকাঘাতে জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামানের ছেলে গুরুতর আহত
মেঘনা বিএনপির কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ
ট্রাম্পকে ময়লার পাত্রে ফেললো ইরানি দূতাবাসের ভিডিও
হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক
তিতাসে নতুন দুই কূপ, দৈনিক মিলবে ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস
আমেরিকানরা ‘বিরক্ত’ হলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হবো: ট্রাম্প
গাজীপুর-সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়