জোট সিদ্ধান্তে ভিন্নমত স্পষ্ট
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন সামান্তা শারমিন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে নির্বাচনি জোট, দলীয় অবস্থান এবং নিজের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন জানান, এনসিপিতে ভিন্ন মতাদর্শ ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে আসা মানুষের সমন্বয়ে একটি মধ্যমপন্থায় পৌঁছানো সহজ বা তাৎক্ষণিক কোনও প্রক্রিয়া নয়। মাত্র ১০ মাসের পথচলায় দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক মধ্যমপন্থা চূড়ান্ত রূপ পাবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণেই দলের ভেতরে মতভিন্নতা ও অভ্যন্তরীণ বিতর্ককে তিনি স্বাভাবিক ও অনিবার্য বলে উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনি কৌশল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে জোট ও আসন সমঝোতার প্রশ্নে এনসিপির ভেতরে ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে বলে জানান সামান্তা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিজের ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও বাস্তবতার মূল্যায়ন থেকেই অবস্থান নিয়েছেন। কোন সিদ্ধান্ত সঠিক, তা সময়ই নির্ধারণ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন স্পষ্ট করে বলেন, তিনি জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করেন না। একইসঙ্গে এ মুহূর্তে দল থেকেও পদত্যাগ করছেন না। তবে এ অবস্থানে থেকে এনসিপি–জামায়াত জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়া বা জামায়াতের কাছ থেকে কোনো ধরনের সাংগঠনিক কিংবা আর্থিক সহায়তা গ্রহণ তার কাছে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। সে কারণেই তিনি এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না বলে ঘোষণা দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এনসিপির ঘোষিত অবস্থান অনুযায়ী এটি কোনও আদর্শিক জোট নয়। ফলে আদর্শিকভাবে জামায়াতের রাজনীতির বিরোধিতা করা এনসিপির অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।
সামান্তা শারমিন বলেন, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠনের সিদ্ধান্ত এনসিপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মোড়। এর ফলাফলের সঙ্গে দলের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও তার নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, নিজের অবস্থানের রাজনৈতিক পরিণতির জন্য তিনি অপেক্ষা করবেন এবং সময়ই এর চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, আল্লাহ ভালো জানেন।
সবার দেশ/কেএম




























