সমকালের রাজুর ফোন কেড়ে নিয়ে গালিগালাজ করেন অভিনেত্রী
পরীমনির বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন নিতে গিয়ে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে। দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন রাজুর মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া, গালিগালাজ এবং তার নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন পরীমনি। এর আগের দিন বুধবার তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত।
সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে পৌঁছানোর পর ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমানের আদালতে হাজির হন তিনি। আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের অভিযোগ, পরীমনি আদালতে আসার পর তারা পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তার ভিডিও ধারণ করছিলেন। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় লিফটে ওঠার মুহূর্তে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন রাজু তখন ভিডিও ধারণ করছিলেন। অভিযোগ, এ সময় পরীমনি উত্তেজিত হয়ে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। পরে রাজু টান দিয়ে ফোনটি ফিরিয়ে নেন। এ সময় পরীমনির নিরাপত্তারক্ষীরা তার ভিডিও ধারণের ট্রাইপড ভেঙে ফেলেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
রাজু বলেন, পরীমনি আদালতে এলে সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। লিফটে ওঠার সময় উত্তেজিত হয়ে তিনি তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন।
শুধু আদালতে প্রবেশের সময় নয়, জামিন পাওয়ার পর বের হওয়ার সময়ও সাংবাদিকদের সঙ্গে পরীমনির উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেছেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, এ সময় পরীমনি সাংবাদিকদের দিকে তেড়ে যান এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এদিকে পরীমনির নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কাধাক্কিতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জাগো নিউজের আশিকুজ্জামান ও আব্দুল্লাহ আল কাউছার, আগামীর সময়ের সিয়াম হোসেন এবং বিচারপ্রার্থী সুজন চন্দ্র মনি দাস। তাদের মধ্যে সুজন চন্দ্রের মাথা ফেটে রক্ত ঝরেছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে পরীমনির পক্ষ থেকে সাংবাদিক রাজুর বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে রাজুর সহকর্মীরা এ অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের দাবি,
রাজুর জন্মগতভাবে এক হাত অচল এবং ডান হাতের দুটি আঙুল নেই। হাতটি স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট হওয়ায় এক হাতে মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করছিলেন তিনি। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেয়ার অভিযোগ তোলার আগে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সহকর্মীরা।
ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ) এবং ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরাম (ডিআরএফ)। এমআরএর সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিকের প্রকাশ্যে হেনস্তা, গালিগালাজ ও হুমকির শিকার হওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয়।
সাংবাদিক সংগঠন দুটি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের একাংশের প্রশ্ন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের কেন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে? তাদের মতে, কোনও তারকা বা পরিচিত ব্যক্তির আদালতে উপস্থিতির সংবাদ সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।
সবার দেশ/কেএম




























