বাড়ছে উদ্বেগ
ভারতের পুশইন, বাংলাদেশকে চাপে রাখার কৌশল
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে লোক ঢুকিয়ে দিচ্ছে ভারত। এর ফলে দেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকার বলছে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে, কিন্তু ভারত তা আমলে নিচ্ছে না।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অন্তত ৯৭৫ জনকে পুশইন করেছে ভারত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৌলভীবাজারে – ৩৩১ জন। এছাড়া সিলেট, কুড়িগ্রাম, খাগড়াছড়ি, লালমনিরহাটসহ আরও অনেক সীমান্তে এসব ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লোক কারা, কোন দেশের নাগরিক – এসব কিছুই জানা যাচ্ছে না। এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) এম মুনীরুজ্জামান বলেন, এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভারত যদি মনে করে কেউ অবৈধভাবে তাদের দেশে ঢুকেছে, তাহলে আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ফেরত পাঠানো উচিত।
সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবু রূশ্দ বলেন, এটা একটা চাপ প্রয়োগের কৌশল। ভারত চায় না বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে সামরিকভাবে বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগতভাবে ঘনিষ্ঠ হোক। তাই তারা এমন কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আগেও জাতিসংঘে এ ইস্যু তুলেছিল। এবারও আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরা দরকার।
এ বিষয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে যেনো প্রোপার চ্যানেলের মাধ্যমে সন্দেহভাজন বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়। আমরা আমাদের নাগরিকদের নিতে প্রস্তুত, কিন্তু নিয়ম মেনেই নিতে হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৮ মে ভারতকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে—সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এ ধরনের পুশইন গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের নিজের আইন অনুযায়ী বিদেশিদের গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা, মামলা চালানো এবং দণ্ড শেষে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা। কিন্তু বাস্তবে ভারত এসব আইন মানছে না।
বিজিবি বলছে, সীমান্তে নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু চোরাপথ ব্যবহার করেই এসব পুশইন হচ্ছে, যা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সবার দেশ/কেএম




























