অভিযোগ এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের
একটি দল ১৭ মাস ধরে ফ্যাসিবাদ কার্যক্রম চালাচ্ছে
ক্ষমতায় না থেকেও গত ১৭ মাসে একটি রাজনৈতিক দল খুনি হাসিনার ১৭ বছরের শাসনের মতোই ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, পাড়ার দোকান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত চাঁদাবাজি ও দখলবাজির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে নোয়াখালী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদারের শাপলা কলি প্রতীকের সমর্থনে সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট বাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ দেখেছি। কিন্তু ক্ষমতায় না এসেই গত ১৭ মাসে আরেকটি দল একই ধরনের ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রদর্শন করেছে। তারা কীভাবে পাড়ার দোকান থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে চাঁদাবাজি করেছে এবং মানুষের হক মেরে মেহনতি জনগণকে নির্যাতন করেছে, তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এনসিপির এ মুখপাত্র বলেন, বিগত ১৭ বছরে হাজারো মায়ের বুক খালি হয়েছে। সর্বশেষ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় চৌদ্দশ ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে। মুক্তিকামী মানুষ স্বাধীনতার জন্য জীবন দিতে পিছপা হয়নি। তাই ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে একটি ভোট দিতেও জনগণ পিছপা হবে না।
তিনি বলেন, এ দলটি ক্ষমতায় গেলে কী করতে পারে, তার নমুনা তারা গত ১৭ মাসেই রেখে দিয়েছে। বিষয়টি না বুঝলে বিগত ১৭ বছরের মতো আবারও দেশের জন্য অন্ধকার দিন অপেক্ষা করছে।
সংস্কার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, তারা দাবি করে মানুষ সংস্কার বোঝে না, পেটে ভাত না থাকলে সংস্কার অর্থহীন। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের অধিকাংশই ছিলো খেটে খাওয়া মানুষ। পেটে ভাত না থাকলেও তারা স্বৈরাচার উৎখাতে রাজপথে নেমেছে। এ মানুষই উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও প্রকৃত সংস্কারের অর্থ সবচেয়ে ভালো বোঝে।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ইতিহাস এখন শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ। বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। ব্যাংক খেলাপি ও ঋণ খেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যারা আবার ক্ষমতায় এসে জনগণের অর্থ লুটের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ঋণ খেলাপি ও বিদেশি নাগরিকদের ভোট দিয়ে জনগণ কি নিজেদের ওপর শাসন চাপিয়ে দেবে?
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, সেনবাগ এলাকাতেও পেশিশক্তি দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখলের হুমকি দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ টানা তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এ নির্বাচনে একজন নাগরিককেও যদি ভোট দিতে বাধা দেয়া হয়, তাহলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। কোনও নাগরিক এবার ভোট না দিয়ে কেন্দ্র থেকে ফিরে যাবে না।
উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ও এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখ্য সমন্বয়কারী তরিকুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়েদ আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইয়াছিন করিম, নায়েবে আমির আবদুল খালেক, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমীন, যুগ্ম সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন এবং প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সবার দেশ/কেএম




























