এবারের নির্বাচনে বদলে যাবে পুরোনো হিসাব-নিকাশ: আসিফ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রচলিত ভোটের পুরোনো হিসাব-নিকাশ ভেঙে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক সমীকরণ চলে আসছিলো, এবারের নির্বাচনে জনগণ তা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে বদলে দেবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৬’ শীর্ষক এ সমাবেশটি আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় ঐক্য। ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ সংসদীয় আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকারের সমর্থনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ৫০ থেকে ৫৫ বছর ধরে যে রাজনৈতিক ইকুয়েশন কার্যকর ছিলো, এবারের নির্বাচনে তা ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, এখন রাস্তায় বের হলে, বাজারে গেলে, সবজিওয়ালা, রিকশাচালক, শিক্ষক, ছাত্রসহ সমাজের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বললে স্পষ্ট বোঝা যায়—দেশের রাজনৈতিক ডেমোগ্রাফিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তাই আগের মতো অমুক দলের ৩০ শতাংশ, তমুক দলের ৪০ শতাংশ—এ ধরনের গতানুগতিক হিসাব এবার আর কার্যকর থাকবে না।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তরুণদের গড়া দল এনসিপি এবারের নির্বাচনে জামায়াতসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অংশ নিচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপির সঙ্গে লড়াই করতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, এবারের নির্বাচন নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ আগামী দিনে কোন পথে যাবে। গত ৫০ বছর যেভাবে দেশ চলেছে, ভবিষ্যতেও সেভাবেই চলবে নাকি জনগণ নতুন পথ বেছে নেবে—এ নির্বাচনেই তার ফয়সালা হবে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে জনগণ যে অপশাসন, গুম-খুন, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির রাজনীতি দেখেছে, সে অন্ধকার অধ্যায় সামনে আবার ফিরে আসবে কি না, সেটিও এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির ইঙ্গিত গত দেড় বছরে একটি দলের আচরণে দেখা যাচ্ছে, যারা আবারও ক্ষমতায় আসার আত্মবিশ্বাস দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান একদিকে হেলে পড়ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উদ্বেগজনক।
নির্বাচনে অনিয়ম হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ভোটে কারচুপি বা পক্ষপাতমূলক আচরণ হলে জুলাইয়ের মতো গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। আগের বিতর্কিত নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত নির্বাচন কমিশনারদের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বর্তমান কমিশনকে সতর্ক করেন, যেন তারা ভবিষ্যতে কোনও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে না পড়েন।
১০-দলীয় ঐক্য শুধু আসন ভাগাভাগির জন্য গড়ে ওঠেনি উল্লেখ করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, এ জোট সংস্কার ও নীতিগত কিছু মৌলিক বিষয়ের ভিত্তিতে গঠিত। তারা ক্ষমতায় গেলে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কারের বাইরেও আরও গভীর সংস্কার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য নুর নবী মানিক। এ সময় ঢাকা-১০ আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. জসীম উদ্দীন সরকার ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন।
সবার দেশ/কেএম




























